অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস। সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সেখানে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। এর মধ্যেই মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ ও সরকারি আলিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা। এসব ঘটনায় জকসু ভিপিসহ ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছেন।
বেরোবিতে ১৪৪ ধারা
সোমবার (৩ আগস্ট) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ব্যানারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এর জের ধরে আজ মঙ্গলবার উভয় পক্ষ আবারও কাছাকাছি স্থানে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিলে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৪৪ ধারা জারি করেন প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান।
জবিতে জকসু নেতৃবৃন্দের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ভিপিসহ ৬
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে প্লাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশের সময় জকসু প্রতিনিধিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফসহ অন্তত ৬ জন মারাত্মক আহত হন।
ঢাকা কলেজে সংবর্ধনার প্রস্তুতিতে হামলা
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা কলেজে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনার পোস্টার লাগানোর সময় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদল। এতে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা আলিয়া মাদরাসা
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরান ঢাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসা। সেখানে হল দখলকে কেন্দ্র করে হেলমেট পরা ছাত্রদল কর্মিরা ও শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
‘ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে’: সারজিস আলম
ক্যাম্পাসগুলোতে সংঘর্ষ ও বলপ্রয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, "ছাত্রদল যত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগ হবে, তাদের পরিণতি তত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে।"