নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐতিহাসিক মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। ছবি: ধ্রুব নিউজ
গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার কার্যকরের দাবিতে ঐতিহাসিক মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে এক বিশাল যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে যশোর জেলা যুবদলের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, “বিএনপি কখনো ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটে না এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছেন না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একক লড়াইয়ের ইতিহাস কেবল জাতীয়তাবাদী দলেরই রয়েছে। ২০১৩-১৪ সাল থেকে শুরু করে চরম বৈরী সময়েও রাজপথ থেকে বিএনপি উঠে আসেনি। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম হয়েছে, নিহত হয়েছে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদ করতে গিয়ে আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিল তিল করে নিজের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন, কিন্তু আপস করেননি। তাঁর এই মহীয়সী ত্যাগই আমাদের অনুপ্রেরণা। তাই আমাদের ফ্যাসিবাদের রাস্তায় হাঁটবার কোনো কারণ নেই।
দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নার্গিস বেগম বলেন, “তারেক রহমান একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির দেশের ওপরে দাঁড়িয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। ব্যাংকগুলোর সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছে, তার কারণ বিগত স্বৈরাচারী শাসনের ঋণ ও অপকর্ম। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশবাসীকে সাথে নিয়ে এসব সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে।” বিরোধী পক্ষকে অনর্থক পরচর্চা না করে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থেকে চিরতরে দলমত-নির্বিশেষে ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, “যুবদল প্রতিটি ইউনিটে নিজেদের পুরো শক্তি নিয়ে জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সাথে মাঠে ছিল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে আন্দোলনকে সফল করেছে।” সামাজিক অবক্ষয় ও শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্যের সমালোচনা করে মুন্না বলেন, “আজকে বাংলাদেশে একটি নতুন অপসংস্কৃতি শুরু হয়েছে। বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকি সেনাপ্রধানের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও তার ধর্মীয় পোশাক-দাড়ি নিয়ে কটু মন্তব্য করতেও তারা দ্বিধা করছে না। বেয়াদব ও সন্ত্রাসীরা সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। তবে এই বেয়াদবদের দেশের জনগণ যুক্তির মাধ্যমেই ইতিপূর্বে বর্জন করেছে এবং আগামীতেও শায়েস্তা করবে।”
যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আনছারুল হক রানার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন ও আসাদুজ্জামান আসাদ। এছাড়া যুব সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ জেলা বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।