নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য, যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে '২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: ধ্রুব নিউজ
সংবিধানের কোনো সাধারণ সংশোধন নয়, বরং সংবিধানের আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ছড়ি ঘোরালে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না। গণভোটে জনগণের সরাসরি রায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, "ধারণাগতভাবে আমরা কোনো সংশোধন মানি না, আমরা সংবিধানের আমূল সংস্কার চাই। আপনারা ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক ডাকেননি, সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করেছেন। পার্লামেন্টে এসে বলুন—'আমরা সংবিধান সংস্কারের ট্রেন মিস করেছি, আসুন উভয় পক্ষ মিলে সংস্কারের জন্য একটি কমিটি করি।' তা না করে যদি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটেন, তবে তার পরিণাম ভালো হবে না।"
আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য, যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে '২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ার কবির, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তার আলী এবং নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।
১১ দলীয় ঐক্য, যশোর জেলার আহ্বায়ক ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, এলডিপি জেলা সম্পাদক খালেকুজ্জামান রিপন, জেলা এবি পার্টির সভাপতি ইয়ামিনুর রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক শামসুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, দপ্তর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, শহীদ তৌহিদুল ইসলাম ও শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার এবং জুলাই যোদ্ধা আব্দুল আহাদ। সভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গণভোটে কোনো 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমতের সুযোগ নেই, এটি জনগণের সরাসরি রায়। তিনি বলেন, "ভোটাররা সরাসরি ৮৪টি প্রশ্নে ভোট দিয়ে 'হ্যাঁ' বলেছে। আর এমপিদের ক্ষমতা হলো ডেলিগেটেড পাওয়ার। তাই সামান্য কিছু ছোটখাটো কারেকশন দিয়ে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়; ছয়টি কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী আমূল পরিবর্তনই জনগণের প্রত্যাশা।"
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, "পাঁচ মাস পার হলেও দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নিজেও সত্য কথা বলেছেন যে, পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হবে কীভাবে? সর্বত্র দলীয়করণ বাসা বেঁধেছে! জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা থেকে শুরু করে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, টিআর, কাবিখা—এমনকি ইমামদের ভাতাতেও দলীয় লোক বসানো হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের সাথে বর্তমান চরিত্রের কোনো পার্থক্য রইল না, কেবল নামটাই বদলেছে।"
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি সংসদে জনগণের এই রায় মেনে না নেওয়া হয়, তবে গণভোটে 'হ্যাঁ' বলা ৭০ শতাংশ জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং গণভোটের রায় পুনরায় প্রয়োগ করা হবে। ফ্যাসিবাদের পথ ছেড়ে দলীয়করণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে ১১ দলের ঘোষিত সকল কর্মসূচি সফল করতে আমি যশোরের সংগ্রামী জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"