ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতারা বক্তব্য রাখেন ছবি: ধ্রুব নিউজ
নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে। আজ রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতারা এই অভিযোগ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ। তিনি বলেন, গত ১১ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে সাবিরা সুলতানার ‘হেরেছি পদধারী নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতায়’ শীর্ষক সাক্ষাৎকারটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই তিনি দলের ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ প্রার্থীর অদক্ষতা, অহংকার এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্নতা। নেতারা জানান, নির্বাচনের সময় দলীয় ব্যানার ব্যবহার না করে সাবিরা সুলতানা তার স্বামীর নামে গঠিত ‘নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে প্রচার চালিয়েছেন। দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে তিনি নিজের বিতর্কিত আত্মীয়-স্বজনদের গুরুত্ব দিয়েছেন, যারা স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত। এছাড়া নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে পকেট কমিটি গঠন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের ত্যাগী নেতাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিনি দলে চরম বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, এই আসনে প্রবাসী ই-পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী যেখানে ১৩ হাজার ভোট পেয়েছেন, সেখানে সাবিরা সুলতানার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১ হাজার ৬শ’র কিছু বেশি। এটি প্রার্থীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি নিজ কেন্দ্র কীর্তিপুরসহ অধিকাংশ কেন্দ্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত ১৭ বছর হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে এখন উল্টো তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। সাবিরা সুলতানার এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দলের হাইকমান্ডের কাছে দাবি জানান তৃণমূল নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্ত্তজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল হকসহ দুই উপজেলার পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।