নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, একদিকে নারীদের গায়ে হাত তোলা, অন্যদিকে তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড ধরিয়ে দেওয়া—এ দুটো একসাথে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা-বোনেরা এখনই নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। যে দল তাদের কর্মী বাহিনীকে সামলে রাখতে পারে না, তারা বাংলাদেশকে সামলে রাখবে কীভাবে?
মঙ্গলবার সকালে এক বিশাল জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে যারাই দেশ শাসন করেছে, তাদের কেউই আজ বুক ফুলিয়ে জনতার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারবে না যে তারা শতভাগ সততার সাথে দেশ শাসন করেছে। আমরা আপনাদের কাছে কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে আসিনি। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে রাষ্ট্র প্রতিটি যুবকের কর্মসংস্থানের জিম্মাদার হবে।
আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের ভিক্ষুক বানাতে চাই না। মায়েদের হাতে স্রেফ ফ্যামিলি কার্ড তুলে না দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কারিগরি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে এমন এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা হবে যারা বিদেশের মাটিতে মজদুর হিসেবে নয়, দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে সমাদৃত হবে।
চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কোনো দখলবাজ বা চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য হবে না। যারা বর্তমানে মানুষের সম্পদ দখল করে বেড়াচ্ছে, তারা সুপথে ফিরে আসুন। যদি ফিরে না আসেন, তবে এই জনতাই আপনাদের জন্য ‘লাল কার্ড’ প্রস্তুত করে রেখেছে। জুলাই বিপ্লবের বীর যোদ্ধা ও শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না।
যশোরের আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা আজ একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। ইনশাআল্লাহ, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবদহের অভিশাপ থেকে আপনাদের মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, ভৈরব নদ সংস্কার এবং নওয়াপাড়া বন্দরকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে যশোরের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের অনুগত না হয়ে জনগণের পক্ষে নির্ভয়ে কাজ করুন। কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। আসন্ন নির্বাচনকে ‘মুক্তির গণভোট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট হবে জালিম ও শোষকদের থেকে মুক্তির ভোট। আমরা সংস্কারের পক্ষে ছিলাম এবং আছি। আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওঃ আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অঞ্চল টিম সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু, মাগুরা জেলা আমীর এম বি বাকের, বিশিষ্ট আইনজীবী ও যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. গাজী এনামুল হক, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী, জনাব মাওঃ হাবিবুর রহমান, যশোর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার, খেলাফত মজলিস যশোর জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, এনসিপি দক্ষিণ অঞ্চল সংগঠক সাকিব শাহরিয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সেক্রেটারি, মাওঃ মাসুম বিল্লাহ, এনসিপি কেন্দ্রীয় সদস্য, খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, এনসিপি জেলা প্রধান সমন্বয়কারী, নুরুজ্জামান, খেলাফত মজলিস জেলা সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা আশেক এলাহি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলা মুখ্য সমন্বয়ক আমানুল্লাহ আমান, সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা জগদিশ বিশ্বাস, শিবির যশোর শহর শাখার সভাপতি এ এইচ এম শামিম, শিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি আশিকুজ্জামান, শিবির যশোর পশ্চিম শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী রোকনুজ্জামান। জনসভা সঞ্চলনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নূর আলী নূর আল মামুন ও মুহাম্মাদ শামছুজ্জামান।
সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমান যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে মনোনীত প্রার্থী যশোর-১ (শার্শা): মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ (সদর): আব্দুল কাদের, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): গোলাম রসুল, যশোর-৫ (মণিরামপুর): অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। ও যশোর-৬ (কেশবপুর): অধ্যাপক মুক্তার আলীকে পরিচয় করিয়ে দেন।