Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কী যে চায় এ মন, কী খোঁজে সারাক্ষণ

সিদ্দিকা লাকী সিদ্দিকা লাকী
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই,২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই,২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
কী যে চায় এ মন, কী খোঁজে সারাক্ষণ

আজকে আমি লিখতে বসেছি বিবাহ নিয়ে। বিবাহ বিষয়ে কিছু বিষয় ভাগাভাগি করি।

আভিধানিক অর্থে, এমন কী আমাদের দেশেও বিবাহ বলতে একটি সংগঠনকে বুঝানো হয়। বলা হয়, দুজন নারী ও পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিক রূপই হল বিবাহ। বিবাহ শব্দটির সাথেই আবার আমরা জুড়ে দেই আরেক থিওরি,সুখী দাম্পত্য জীবন। চলুন দেখি,আমাদের দেশে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে কীভাবে বা কতভাবে? কেমন থাকে এ সংগঠনের বাসিন্দারা? কতটাই বা সুখী হয়ে থাকে তারা? সুখী না হলে আসল কারনটাই বা কি? সুখ নামক কল্পনাপ্রসূত আবেগটাই বা কি? সুখী না হলে কি করা উচিত? সুখী হবার সাথে স্বার্থ বা ত্যাগের কোন সম্পর্ক আছে কি আদৌ? পরিবারের অন্য সদস্যদের কি কোন ভুমিকা আছে? দাম্পত্য কলহ কখন মহীরুহে পরিণত হয়?

প্রতিনিয়ত এরকম হরেক প্রশ্নে  আমরা জর্জরিত হই । এখন কতগুলো বাস্তব কিন্তু ছদ্মনামে কেস স্টাডি আলোচনা করবো, যা উপরের প্রশ্নগুলোকে সহজ সমাধান দেবার সামান্য প্রয়াস হিসেবে গণ্য হবে।

প্রথমে নিজের কথাই বলি।

আমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল আমার বাবার বাড়িতে, আমাদের নিজ বাসভবনে। সবকিছুই ঠিক ছিল। কিন্তু কেন জানি না, বিদায় নেবার ঠিক আগের মুহূর্তে বাবা আর মাকে যখন বলতে যাই, আর আমাকে তার কাছে সঁপে দেওয়া হয়, তখন কী যে অঝোর শ্রাবণের কান্না আমি করেছিলাম, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমার কাছে মনে হয়েছিল যেন, সেদিন থেকে আমার আর আপনগুলো আপন হয়ে রইলো না, এবার নতুন আপন খুঁজে নেবার পালা। আজও সে কান্নার স্মৃতি আমায় তাড়া করে ব্যস্ততম মধ্যদুপুরে কিংবা আবেগী বিকেলগুলোতে।

সত্যিই আমাদের দেশে কন্যা বিদায় বা সম্প্রদান একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা।

এখন বলুন। একটি মেয়ে তার শৈশব, কৈশোর, ঝাঁকড়া চুলের বেণি,আম কুড়ানো,বৃষ্টিতে ভেজা, কানামাছি, বাবার হাত ধরে বাজারে যাওয়া, এক টাকার কুড়িয়ে পাওয়া নোট দিয়ে সুপার বিস্কুট কিনে খাওয়া, অন্যের বাগানের লিচু কিংবা বরই  কুড়িয়ে খাওয়া, এসব রঙ্গিন স্মৃতিগুলো পিছনে ফেলে শুধুমাত্র বিবাহিত জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ অচেনা একটি পরিবেশে(যদি প্রেম বা পুর্ব পরিচিত বিবাহ না হয়)।

অথচ তাকে সহসায় মেনে নিতে হয় দাম্পত্য,যৌনজীবন,সন্তান(কয়টি নিবে তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই) কমপক্ষে দুটি,তারপর পুরো শশুড়বাড়ির দায়িত্ব কাঁধে নেয়া,গিন্নিপনা,সন্তানদের লালনপালন,এমনকি স্মার্ট ফর্মে বলতে গেলে সার্বক্ষণিক গৃহকর্মীর ভুমিকা পালন করা।এ ব্যাপারে আমার বাপজান আমাকে বলে,বেতনবিহীন কাজের বুুয়া।এর কারনও আছে,তার কাছে মনে হয় আমি বাহিরে দাপুটে চাকুরিও করি,আবার সংসারও সাজাই,কিন্তু একই কাজ করে তো গৃহকর্মী আন্টি বেতন নিয়ে যায়,মার তো কোন বেতন নেই, তাই সে মজা করে এটা বলে।আমি ওর এই স্বীকৃতিতে বেজায় খুশি।

বিবাহিত জীবনের সুখ বাটখারায় মাপা সম্ভব নয়, প্রতিটি দাম্পত্য জীবনে সুখ দুঃখের থাকে হাজারও সাতকাহন। কেউ চাকরিওয়ালা মেয়ে বিয়ে করে সুখী, কেউ আবার চাকরি ছাড়িয়ে দিয়ে সুখী, কেউ আবার বেকার যুবকে সুখী, কেউ আবার শিল্পপতি বর হয়েও শুঁকে বেড়ায় নতুন কুঁড়ির ঘ্রাণ

আমি যেকোনো পরিস্থিতিতেই সুখী জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত।  আমি মনে করি এটা একটা বিরাট গুণ।এই গুণ মানুষকে চাওয়া পাওয়া, কামনা বাসনা, লোভ লালসা, হিংসা বিদ্বেষ, সব কিছু থেকে দূরে রাখে। আর মানসিক প্রশান্তি বেড়ে যায় বহুগুন। কিন্তু কষ্ট পাই যখন দেখি সুখী হতে কত কী যে লাগে!

এখন উপরের প্রশ্নগুলি বিশ্লেষণ করি।

আমাদের দেশে মোটামুটি দুই রকমের বিবাহ হয়ে থাকে। অ্যাফেয়ার ম্যারেজ বা ভালোবেসে বিবাহ, যেখানে পাত্র পাত্রী প্রিডেসটাইন্ড বলে দাবি করে, আর সেটেল্ড ম্যারেজ বা পারিবারিক সম্মতি ও আয়োজনে বিবাহ- যেখানে তারা কোর্টের বল হিসেবে রোল প্লে করে,অবশেষে যার বল যেদিকে গড়ায়, এরকম অনেকটা।

প্রশ্ন হচ্ছে,প্রেমের বিবাহ হলেই কি সুখী হওয়া যায়?

একমাত্র উত্তর হচ্ছে, না যায় না। কারণগুলো আগেই বলেছি। ওই যে ফেলে আসা দিনগুলো, ওই যে বোঝাপোড়া,ওই যে কথিত দাম্পত্য যেখানে দুটি হলে ভালো হয়, একটি হলে মন্দ নয়, বউ নাকি বুয়া, ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবাহের পরে মূল উপজীব্য হয়ে উঠে। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রেমিক পুরুষ আর সেই পুরুষ থাকে না, ততোদিনে সে খোলস পাল্টে বদলে যায় সরীসৃপের মতো, মানে পরিবারতন্ত্র তাকে পেয়ে বসে, তখন প্রেমিকা হিসেবে নয়,বউ হিসেবে দেখতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

এবার বলি কেমন থাকে এ ভুবনের বাসিন্দারা?

একেবারেই সহজ উত্তর-দিল্লী কা লাড্ডুর মতো। যে খায় সে পস্তায় ,যে না খায় সেও পস্তায়। মানে বিবাহ পরবর্তী শুরু হয় মেগা যৌন জীবন, আটপৌরে ঘর গেরস্থালি, চাকরি, আয় রোজগার নিয়ে দোটানা, আরও কত কী, এরই মধ্যে ঘর আলো করে ফোটে সন্তান নামের ফুল। মোটকথা, যাপিত জীবন তখন ষোলকলায় পূর্ণপ্রায়। কিছুদিন পরেই এই জুটি নিজেদের ভরা কোটাল মরা কোটাল সমস্যায় আক্রান্ত বলে আবিষ্কার করে, অর্থাৎ জোয়ার ভাটার নিয়মে শুধু দিন গোনে।

বিবাহিত জীবনের সুখ বাটখারায় মাপা সম্ভব নয়, প্রতিটি দাম্পত্য জীবনে সুখ দুঃখের থাকে হাজারও সাতকাহন। কেউ চাকরিওয়ালা মেয়ে বিয়ে করে সুখী, কেউ আবার চাকরি ছাড়িয়ে দিয়ে সুখী, কেউ আবার বেকার যুবকে সুখী, কেউ আবার শিল্পপতি বর হয়েও শুঁকে বেড়ায় নতুন কুঁড়ির ঘ্রাণ, কেউ আবার মান সম্মানের ভয়ে, ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে সুখে থাকার অভিনয় করে যায়, কেউ আবার আক্ষরিক অর্থেই সুখী, কত রকমের সুখে দাম্পত্য জীবন সয়লাব হয়, তা দম্পতি মাত্রই অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

আরও পড়ুন-

পরিবর্তনের খতিয়ান : স্মৃতি ও বাস্তবতা পরিবর্তনের খতিয়ান : স্মৃতি ও বাস্তবতা

যারা তাদের দাম্পত্য সুখের নয় বলে দাবি করেন, তাদের মধ্যে মূলত দুটি কারণ সামনে আসে- এক. আর্থিক ও দুই. মানসিক। সেই সাথে কিছুটা শারিরীকও বটে।

এই তিনটি কারণের আবার রয়েছে অজস্র উপ-কারণ যা কারও দাম্পত্যকে বিষময় করে তুলতে যথেষ্ট।

সুখ একান্ত কল্পনাপ্রসূত একটি আবেগ অনুভব। এই একটি অনুভূতি যা কখনোই তুলনা বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। আর্থিক বা লোক দেখানো বিষয়গুলোর সাথে এর সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, সারা দিনের খাটাখাটনির পরেও যদি ইটের বালিশ মাথায় নিয়ে আপনি ঘুমাতে পারেন,তাহলে আপনি যার পর নাই সুখী। আর সুন্দরী রমণি যদি আপনাকে পরের ঘরের কুলসুমের দিক থেকে নজর ফেরাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি সেই সুন্দরী রমণির পতি হয়েও চরম অসুখী, বেচারাই বলা যায়।

সুখী না হলে কি করা উচিত? এক কথায় বলায় যায়- মেনে চলা, মানিয়ে চলা।

অর্থাৎ কম্প্রোমাইজিং টুল এপ্লাই করে দিন পার করা। আমরা ৮০% দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখা জুটিগুলোর মাঝে এই একটা কারণকেই বড় করে দেখি। এছাড়া একান্ত না পেরে উঠলে বিচ্ছেদের পরিকল্পনা নে্ওয়া যেতে পারে।

সুখী হবার সাথে অবশই স্বার্থ বা ত্যাগের সম্পর্ক আছে। স্বার্থ যেমন আপনাকে সংকুচিত করে সুখ নামক সোনার হরিণ থেকে বঞ্চিত করে ,তেমনি ত্যাগ আপনাকে সুখের সাগরে ভাসিয়ে আবেগাপ্লুত করে দিতে পারে। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের আত্বীয়স্বজন বা পরিবারকে মেনে নেওয়া, আপন করে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করাটা এই ত্যাগ বা স্বার্থের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে। আমরা এসব ক্ষেত্রে বড়ই অনুদার!

পরিবারের সদস্যদের অবশ্যই ভূমিকা আছে এবং থাকতে হবে, স্বামী-স্ত্রীর হক আদায়ের জন্য ইসলামী চূড়ান্ত নীতি অনুসরণ করলে তা পারফেক্ট রেজাল্ট দেয় বলে জানা গেছে। তাছাড়া, উভয়ের পরিবার ছোটবেলা থেকেই যদি মূল্যবোধের আর সম্মানের শিকড় গেঁথে দেয়, তাহলে এই জুটি দাম্পত্য সুখ অনুভব করবে অনায়াসেই। আর পরিবারের সদস্যদের উচিত তাদের অভ্যন্তরীণ রুচি বা অভ্যাস, ভালো লাগা না লাগাগুলোকে তাদের উপর ছেড়ে দেওয়া, কোচিং বা সাজেশন একেবারেই কাম্য নয়। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম।

হ্যাঁ, দাম্পত্য কলহ এক সময় মহীরুহে পরিণত হয়, এমন কি হত্যা,আত্মহত্যা বা পরকীয়া প্রেমের বলি হতেও পারে যেকোনো একজন। তাই আমাদের সকলের উচিত, কেইস বাই কেইস, স্বাভাবিক গতিতে পরিবারের সবার নির্জলা সুখী জীবন যাপনে সহযোগিতা করা।

আমি আগেই বলেছি, একটি মেয়ে অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে বাপের বাড়ির আদরের দুলালী থেকে আরেক বাড়ির বুয়া বা বউ হয়ে ওঠে,এটা কম সহানুভূতির বিষয় নয়। সে যেন শ্বশুর বাড়িতেও সেই পরিবেশ পায়, সেজন্য স্বামী সহ অন্য সদস্যদেরও সংবেদনশীল হতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজ রিপুর তাড়নায় এক রকম ক্ষত বিক্ষত। তাই প্রতিনিয়তই ঘটছে বিবাহ বিচ্ছেদ বা প্রাণহানির মতো ঘটনা।

আসুন, এখন আমাদের কর্তব্য হলো- অন্যের অধিকারের প্রতি সহনশীল হই। যাপিত জীবন সুখময় করে তুলি। একা নয়, সবাইকে নিয়েই তবে বাঁচি।

লেখক: কবি, গদ্যকার ও মোটিভেশনাল স্পিকার। অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে সিআইডিতে কর্মরত।

*মতামত লেখকের নিজস্ব

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)