ক্রীড়া ডেস্ক
প্রতীকী চ্যাম্পিয়নশিপ রিং ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপ জয় মানেই পরম আরাধ্য সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা আর গলায় সোনার মেডেল পরার গৌরব। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে চ্যাম্পিয়নদের এই চিরচেনা উদযাপনে যুক্ত হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা। উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় ক্রীড়া সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হবে দৃষ্টিনন্দন 'চ্যাম্পিয়নশিপ রিং'।
আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে পর্দা নামবে এবারের মেগা আসরের। মেগা ফাইনালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে বিজয়ী দল ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি এই অনন্য সম্মাননায় ভূষিত হবে, যা ফিফার দীর্ঘ ইতিহাসে একদমই অভিনব। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই ফাইনাল শেষে প্রতীকী হিসেবে বিজয়ী দলের অধিনায়ক এবং প্রধান কোচের হাতে এই আংটি তুলে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য তাদের আঙুলের সঠিক মাপ অনুযায়ী তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে আংটিগুলো হস্তান্তর করা হবে।
এই চ্যাম্পিয়নশিপ রিংগুলোর নকশায় থাকছে বিশেষ চমক। আংটির এক পাশে খোদাই করা থাকবে চিরচেনা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিচ্ছবি, আর অন্য পাশে থাকবে বিশ্বজয়ী দলের নাম ও নিজস্ব পরিচিতি। প্রতিটি আংটিতে একটি স্বতন্ত্র নম্বর থাকবে এবং এর সাথে দেওয়া হবে আংটির সত্যতা নিশ্চিতকারী একটি সনদ।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, টুর্নামেন্টের সালকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বজুড়ে মোট ২ হাজার ২৬টি আংটি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বরাদ্দ থাকবে কেবল ৩০টি রিং। বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি আংটি ফিফার লাইসেন্সকৃত অফিশিয়াল পণ্য হিসেবে সারাবিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিক্রির উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত করা হবে। ফলে সাধারণ ভক্তরাও বিশ্বকাপের ইতিহাসের এই নতুন ও বিরল স্মারকটি নিজেদের সংগ্রহে রাখার অভাবনীয় সুযোগ পাবেন। মূলত উত্তর আমেরিকার পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে চ্যাম্পিয়নশিপ রিং প্রদানের যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে, সেই রোমাঞ্চকর সংস্কৃতিটিই এবার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিতে যাচ্ছে।