ধ্রুব ডেস্ক
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে উদ্ধারকৃত দেশি-বিদেশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি ছবি: সংগৃহীত
এখন থেকে এখানে আর কোনো সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না- দাবি চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ২০ বছর পর পুলিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে বলেও দাবি করেছেন ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করাসহ ৩০টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ গুলি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। আহসান হাবীব বলেছেন, এখানে মানুষ ও প্রশাসন যেতে ভয় পেত। মানুষের ভয় কাটানোর জন্য সলিমপুরে অভিযান চালানো হয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানের কারণে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এখন নিয়মিত টহল টিম সেখানে যাবে।
গতকাল মঙ্গলবার নগরের খুলশীতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি অফিসে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কিছু সুবিধাভোগী ভূমিদুস্য সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা করে জানিয়ে তিনি বলেন এখানে প্রায় লাখো মানুষ আছে। তাদের পুনর্বাসনে কাজ করবে সরকার। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ডিআইজি বলেন, বড় অভিযান চালাতে গেলে কিছু দুর্বলতা থাকে।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান এবং ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মিয়ানমারে ব্যবহার করা হয় এমন গুলির পাশাপাশি ৭.৬২ গুলিও পাওয়া গেছে। এত অস্ত্র ও গুলি কোথা থেকে এলো, কারা তা ব্যবহার করছিল– খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে।
ডিআইজি লিখিত বক্তব্যে জানান, সেনাবাহিনীর ৫০০ সদস্য, জেলা পুলিশের ১৫০ সদস্য, মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮০০ সদস্য, রেঞ্জ রিজার্ভ থেকে ৪০০ সদস্য, বর্ডার গার্ডের ১৫০ সদস্য, র্যাবের ৪০০ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অভিযানে অংশ নেয়। এ ছাড়া তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, ৩টি ডগ স্কোয়াড, ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। চিরুনি অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র (১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি দেশীয় পিস্তল ও ১টি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ১৯টি সিসি ক্যামেরা, থ্রি ডি ডিভিআর, ১টি পাওয়ার বক্স ও দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, র্যাব-৭ এর সিও লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান প্রমুখ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গত সোমবার ভোর ৫টা থেকে জঙ্গল সলিমপুর, আলিনগর ও আশপাশের এলাকায় সমন্বিত এ অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। সকাল ১০টার পর থেকে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়। পাশাপাশি পাহাড়ি ঝোপঝাড় বা মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক শনাক্তে ডগ স্কোয়াডও কাজে লাগানো হয়। তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
ধ্রুব/এম