Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বেসামরিক প্রাণহানির উদ্বেগের মাঝেই ইরান যুদ্ধে ‘উন্নত এআই’ ব্যবহারের স্বীকারোক্তি পেন্টাগনের

আলজাজিরা আলজাজিরা
প্রকাশ : বুধবার, ১১ মার্চ,২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
বেসামরিক প্রাণহানির উদ্বেগের মাঝেই ইরান যুদ্ধে ‘উন্নত এআই’ ব্যবহারের স্বীকারোক্তি পেন্টাগনের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী 'ভিন্নধর্মী' কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) টুল ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের ময়দানে ক্রমাগত বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনায় ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝেই পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার গত বুধবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, মার্কিন সেনারা বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য এআই-এর সাহায্য নিচ্ছে। তিনি বলেন, "আমাদের যোদ্ধারা বিভিন্ন ধরনের উন্নত এআই টুল ব্যবহার করছে। এই সিস্টেমগুলো আমাদের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশাল ডেটা সেট পর্যালোচনা করতে সাহায্য করে, যাতে আমাদের নেতারা দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।" কুপার আরও স্পষ্ট করেন যে, কখন, কোথায় এবং কাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হবে—এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় মানুষই নেবে। তবে এআই এমন সব কাজ কয়েক সেকেন্ডে সম্পন্ন করছে, যা আগে করতে কয়েক ঘণ্টা বা দিন লেগে যেত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে এখন পর্যন্ত ১,২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে বোমা হামলায় ১৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধেও একইভাবে এআই-এর ওপর অতি-নির্ভরতা দেখা গিয়েছিল, যেখানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, এই বোমাবর্ষণে প্রায় ২০,০০০ বেসামরিক ভবন, ৭৭টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং অসংখ্য তেলের ডিপো ও বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে এআই-এর এই ব্যবহার আধুনিক সমরকৌশলকে আমূল বদলে দিলেও এটি সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে যখন প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিয়ে খোদ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানের সমান্তরালে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'এনথ্রোপিক' এর সাথে ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। পেন্টাগনের সাথে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও এনথ্রোপিক শর্ত দিয়েছিল যে, তাদের এআই মডেলগুলো যেন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা ব্যাপক নজরদারির কাজে ব্যবহার না করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন এনথ্রোপিক-কে 'সাপ্লাই চেইন রিস্ক' বা সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকি হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এনথ্রোপিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র কিংসলি উইলসন এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "অপারেশন এপিক ফিউরি বা অন্য কোনো মিশনে নিয়োজিত আমাদের যোদ্ধারা সিলিকন ভ্যালির মতাদর্শ বা প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি থাকবে না। আমরাই সিদ্ধান্ত নেব এবং আমরাই জিতব।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে এআই-এর এই ব্যবহার আধুনিক সমরকৌশলকে আমূল বদলে দিলেও এটি সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে যখন প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিয়ে খোদ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে।

ভাষান্তর: মহিউদ্দীন মোহাম্মদ

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)