রমজান আলী, বেনাপোল (শার্শা)
যাত্রীদের হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বেনাপোল (শার্শা): ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সম্প্রতি নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্টে এখনো কাঙ্ক্ষিত সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ কেবল সীমিত ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের শুধুমাত্র হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কপালে থার্মোমিটার ধরে তাপমাত্রা মাপা ছাড়া নিপা ভাইরাস শনাক্তে উপসর্গভিত্তিক আলাদা স্ক্রিনিং বা বিশেষ কোনো পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দেখা মেলেনি।
বর্তমানে প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে এক হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দর ও কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে সাধারণ যাত্রী ও দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। তবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। যাত্রী টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় বহিরাগতদের ভিড় থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।
সীমিত জনবল নিয়ে চেকপোস্ট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুই-তিনজন কর্মী। এদের মধ্যে রয়েছেন একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং একজন এনজিও কর্মী। এই স্বল্প জনবল দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রীর স্বাস্থ্য নজরদারি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
তবে চেকপোস্ট স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত দুই নার্স সুস্থ হওয়ার পর সেখানে সংক্রমণ আর বাড়েনি। এ কারণে বাংলাদেশে এখনো ঢালাও পরীক্ষার নির্দেশনা আসেনি। তবে নিয়মিত থার্মাল স্ক্যানিং চালু আছে এবং কোনো যাত্রীর শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্ত্তজা আলী বলেন, ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রবেশের আগে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা মাস্ক ছাড়া আসছেন, তাদের বিনামূল্যে মাস্ক দিচ্ছি। ইমিগ্রেশনের সব কর্মকর্তাও সতর্কতামূলক মাস্ক ব্যবহার করছেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মজিদ জানান, সরকারি নির্দেশনার আলোকে আমরা ভারত থেকে আসা যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছি। নিপা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রীর শরীরে ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি।