❒ যশোরে ২৬ শিক্ষার্থীসহ আক্রান্ত ৫১
ধ্রুব নিউজ
আক্রান্তদের মধ্যে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ২১ থেকে ৩৫ বছরের বয়সী মানুষ।
এক সময় শুধু আন্তর্জজাতিক খবরের শিরোনাম ছিল এইচআইভি/এইডস, আজ তা যশোরের গ্রাম ও শহরে প্রবেশ করেছে। শিক্ষার্থী ও যুবসমাজও আক্রান্ত হচ্ছে, আর সচেতনতা না থাকায় সংক্রমণ বেড়েই চলছে। চলতি বছরে ২৬ শিক্ষার্থী সহমোট ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, চারজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ধর্মীয় অনুশাসন মানা এবং নিয়মিত কাউন্সেলিং ছাড়া এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে মোট ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬। আক্রান্তদের মধ্যে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ২১ থেকে ৩৫ বছরের বয়সী মানুষ।
বর্তমানে যশোর অঞ্চলে নিবন্ধিত এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ২৪৫ জন, যার মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন। চলতি বছর চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ধর্মীয় অনুশাসন না মানা, যত্রতত্র যৌন মিলন এবং রক্তপরীক্ষা বা রক্ত সেবনের সময় সতর্কতা অবলম্বনের অভাব এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের এন্ট্রো রেফারাল ভাইরাস থেরাপি (এআরটি) সেন্টারে এসব রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে ওষুধও প্রদান করা হচ্ছে। দেশে মোট ২৩টি এ ধরনের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে, যশোর ও খুলনা এ দুই কেন্দ্রে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিয়মিত চিকিৎসা নিলে আক্রান্তরা দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকতে পারেন। তবে রোগটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়; একমাত্র সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মানার মাধ্যমে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব।
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘এইচআইভি/এইডস একটি প্রাণঘাতী রোগ। আক্রান্ত হলে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, তবে নিয়মিত চিকিৎসায় রোগীর জীবন অনেক বছর দীর্ঘ করা যায়। রোগটি যাতে ছড়াতে না পারে, তার জন্য ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, রোগীদের কাউন্সেলিং এবং শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।’
যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা জানান, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি, সমাজের সকলের দায়িত্ব এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে; তাই অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো ছেলে-মেয়ের গতিবিধি সম্পর্কে নজর রাখা। স্বাস্থ্য বিভাগ একা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না; পুরো সমাজকে সচেতন হতে হবে।