কবিতা
মধ্যবিত্ত
আমি একজন মধ্যবিত্ত,
মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো আমার হয় নাকো পুরণ
তবু উন্নত যে সদা চিত্ত।
মুখে লেগে থাকা হাসির আড়ালে
আমার দুঃখগুলো যে লুকিয়ে থাকে,
শত হাহাকারের বিদীর্ণ চিৎকারে
আমি খুঁজে বেড়াই বেঁচে থাকার মানে।
আমি নির্বিকার
আমি করি চিৎকার
গগন বিদারী ঝড় উঠে,
হৃদয় হয়ে যায় তোলপাড়।
পকেটে আমার রাজ্যের হতাশা
মাসের শেষ দিনে বেড়ে যায় আশা,
এবার বুঝি জুটবে নতুন জামা
প্রিয় সন্তানের চকলেট হাসির বাতাসা।
পান্তা ফুরালে তবে নুন আসে
আমার স্বপ্নগুলো যেন সাগরে ভাসে,
স্বপ্ন বুনি স্বপ্ন সাজাই
আলোর আশায় আমি আধার তাড়াই।
হিসাবের খাতায় ফর্দ গুনি,
করলা আগে না পটল কিনি।
দামের ব্যবধানে পাড়ার দোকানে ঘুরি
মাসের বাজার নয়,দিনের আহার কিনি।
তবুও আমি মধবিত্ত
স্বল্প আয় আর রোজগারে খুশি
সদা উন্নত আমার চিত্ত
আমি যে দারুণ মধ্যবিত্ত।
বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না
পাঁচের আহার তিনে জোটে না,
তবুও আমি বিবেক বেচি না
প্রাপ্তির খাতায় মাঝারি সুখ
তাতেই ভরে ওঠে আমার বুক।
আমি দ্বিধাহীন মধ্যবিত্ত,
সুখের অসুখ নেই যে আমার
আমি তাই উন্নত করি চিত্ত
আমি বড়ই মধ্যবিত্ত।
কাব্যচর্চা
মানুষ চিনতে আর আমার ভালো লাগে না,
মানুষগুলো যেন কেমনতর হয়
স্বার্থহীন অথবা স্বার্থপর
পরকে করে আপন
আপনকে করে পর।
শংখচিলের ডানা আর পংখিরাজ ঘোড়ার মতো
উড়তে
আমার আর ভালো লাগে না,
এগুলো বুঝি সব স্বপনেতে হয়
রুপকথার যাদুর গল্প
বাস্তবে রুপ কভু না নেয়।
জীবনের মানে খুঁজতে খুজতে আমি বড় ক্লান্ত
জীবনের মানে আসলে কি আছে?
তোমরাই বলো তো।
চাই না কোন লেনাদেনার হিসেব মেলাতে
একটাই জীবন শুধু পার করে দেব
তোমাকে ভালোবাসতে ভালোবাসতে।
জীবনের এই জলসাঘরে
জ্বেলেছি পিদিম বাতি
দুঃখের তেলে পরাণ জ্বলে
আমার দিবারাতি।
চাই না আর কোনো সুখ
চাই না আর কোনো দুঃখও
এ জীবনে তুমি হও নি আমার
হবে কি আর জীবনেও?
ভালোবাসা ছাড়া বেঁচে থাকার
আসলেই কোন মানে নেই তো।
তোমার হৃদয়ের কারুকাজ জানা ছিল না আমার
তোমাকে দেখেছি বহুবার,
জেনেছি তারও বেশি,
যতই জেনেছি
ততই লেগেছে অচেনা
যেন জীবনে প্রথম এই বুঝি দেখলাম আবার।
তোমার হৃদয়ের অলিগলিতে ছিল
আমার অবাধ বিচরণ,
সময়ের শ্রেষ্ঠ যুগল হিসেবে কেটেছে অনুক্ষণ।
রহস্যের নীল দেওয়াল পেরিয়ে
আমি প্রবেশ করেছিলাম
অন্দরমহলে,
দেখেছি সেখানে অবলীলায় খেলা করে সুজন কারিগর।
দেওয়ালের ভাঁজে ভাঁজে
সীমানার শেষ গাঁথুনির ইটের কুঠুরিতে,
তোমার নামে কত শত শোলক লেখা আছে,
এত দেখি দেখি করেও তবু তোমায় দেখা হল না।
জানি জানি করেও জানা হল না,
ভেদ করা হল না অপার রহস্যের কিনার।
শুধুই মনে হল
তোমার হৃদয়ের কারুকাজ জানা ছিল না আমার।
আমার যত কথা
আমার সব কথা
জমা থাকে বিকেলের শেষ খামে,
তোমার কাছে পৌঁছানোর
ঠিক আগের মুহূর্তে
ডাকপিয়ন ট্রেন মিস করে।
পাখির গায়ে চিঠি এঁটে দেই
পাখি উড়ে যায় ভুল ঠিকানায়।
তোমাকে না বলা বেদনাক্রান্ত
হৃদয়ের গহীনে
আমার কথাগুলোর শিকড় গজায়,
ডালপালা নুইয়ে পড়ে
দশ দিগন্তে,
তবু আমার সব কথা
শুধু তোমাকেই বলতে ইচ্ছে করে।
একদিন এ পথে হেঁটে যাবে তুমি
এ পথে পথিক নেই
আছে বিরানমরুভূমি।
এ পথে আলো নেই
এ যেন আঁধারের লীলাভূমি।
এ পথে স্বপ্ন নেই
দু'চোখ যেন অশ্রুখনি।
এ পথে আশা নেই
আছে নিরাশার দোদুল পাহাড়।
এ পথে সঙ্গী নেই
আছে একাকীত্বের সমাহার।
এ পথে রং নেই
আছে ধুসর কালো অথবা নীল রং বেদনার।
এ পথে মন নেই
নেই মনের গহীন কোণও।
তবু এ পথে তোমার দেখা পেয়ে
কেন জানি মনে হলো,
একদিন এ পথে হেঁটে যাবে তুমি।