জেকিল মুখোশ
আমি অন্ধকারের শিল্পী-
এরেবাস-বুকে মুখ লুকিয়ে
গাই গান; তালে তালে নাচি।
কল্পনায় রচিত হয় পুরাণ,
আমি হয়ে উঠি জিউস; আঁকি-
অচেনা সুন্দর শহরের ব্ল্যাকআউট ছবি।
ভেতরে জেগে ওঠে জানোয়ার
ইচ্ছে করে এইরিস-বর্বরতায়
মেতে উঠি পৃথিবীর সাথে।
তবু কৃতজ্ঞ আমি
তুমি ঢেকে রাখো অপ্রকাশিত ইচ্ছেগুলো,
লুইসের হাইড ঢাকা পড়ে জেকিল-মুখোশে।
বেনিয়াশালায় দগ্ধ জীবন
কোকিলের কুহুতানে অভিমানী মেঘ
ডেকে যায় মিছেমিছি নষ্ট আবেগ,
হৃদয়ে দোলে না প্রেম; যন্ত্রমানব
প্রেমিকার বাহুডোর যেন ঘেরটোপ।
বেনিয়া বাতাসে ওড়ে ভালবাসাবাসি
কামের আগুনে পুড়ে তাই কাছে আসি,
টোপ দিয়ে লুটে নেয় ক্ষুধাতুর মন
প্রেমিকার অবয়ব; দগ্ধ জীবন।
হৃদয়ের লেনাদেনা প্রেম সেতো নয়
ছেনালীপনায় মোড়া কাম বিনিময়,
এসো খেলি হালখাতা, নতুন বছর
বকেয়া খাতায় থাক ‘প্রেম প্রেম ঘোর’।
অন্তিম শয়ান
তোমার আলিঙ্গনে তৃপ্ত নই,
ওষ্ঠাধরে নিবিড় চুম্বনে কাঁপে না হৃদয়।
চাঁদোয়া সন্ধ্যায় জারুল বনের সেই চেনা পথের মাতাল হাতছানি--
ঝড় তোলে না মন-মন্দিরে।
জেনে গেছে সময়,
আটপৌরে জীবনের কাবলিওয়ালা তুমি-
সুখ মেপে চলেছো স্বার্থের নিক্তিতে।
হঠাৎ ঝড়ে খসে গেছে তোমার যাদুর খোলস।
বেনিয়া-নাগর তুমি;
চেইনশপে খোঁজো কাব্য-রস-সুধা;
আমি ভুল প্রেমিক;
কাব্যসৌধ গড়ি হৃদয়হীনার বুক-চোরাবালিতে!
যে মরু-হৃদয়ে ফোটে না কবিতার ফুল; সে পাষাণবক্ষে ফিরে যেতে চাই না।
আমাকে কবর দিও কবিতার গোরস্থানে!