আমি আমার ঠিকানা বদলে নিয়েছি
আমি আমার ঠিকানা বদলে নিয়েছি,
পাল্টে নিয়েছি নম্বর প্লেট।
অভিমান পুড়েছে—
ছাইয়ের কালিতে লিখেছি রোড নম্বর।
অলস ড্রেনের ধারে
ছেঁড়া কবিতা,
ছোট্ট স্তবক জুড়ে জমে উঠেছে মেঘ।
সেখানে তোমার কথা নেই,
বিকেলের হারানো একমুঠো সুখ
ঘূর্ণি বাতাসে ভেসে
আবারও দিয়েছে চিঠি ভুল ঠিকানায়।
আমি আমার দরজাটা বন্ধ করেছি,
রঙ পাল্টে নীলের অবয়বে সাজিয়েছি
নতুন ঠিকানা।
আমি আমার ঠিকানা বদলে নিয়েছি—
একাই, অভিমানে....
নতুন বাংলাদেশ
হয়তো বিবেক ব্যথাভারে ন্যূজ প্রিয়মুখ হারানোর
দেখছি এখানে শোকের আবহ লেখনীতে বড়জোর
দেখে চুপ চুপ চোখেরা এখানে অপরাধবোধে ভুগে
আলগা বোধেরা শাস্তি পাবেনা এদেশের অসুখে!
সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্ন প্রশ্ন খেলায়
খুনিরা আড়ালে অন্যরকম উল্লাসে মেতে যায়
কিশোর এখানে দেশপ্রেমে মেতে মিথ্যা অপবাদে
হয়তো বুঝেনি মৃত্যু এখন আপন বাহিনী সাধে?
চিতিয়ে দাঁড়ানো বুকের ভিতর বারুদেই ভরপুর
লালখুনে রাঙা বন্ধুর দু'হাতে পতাকার ভাংচুর।
মিথ্যা, তুমি মিথ্যার যতো- করেছো সদাই-পাতি
গুমরে কাঁদছে গুমোট আঁধারে লক্ষ মায়ের জাতি।
মিথ্যে ঘিরেছে শহরে শহরে শঠতার পিচ ঢেলে
অধিকার হারা মানুষের বুকে দিয়েছে আগুন জ্বেলে।
এ মাটির যতো দৈন্য থাকুক, শুনে রাখো শেষমেষ
ফেরাবো তবুও প্রাণের আবেগে নতুন বাংলাদেশ।
কাপুরুষ
কাপুরুষের তালিকা হচ্ছে জেনে
বলেছি কর্তৃপক্ষ শোনো,
তালিকার এক নম্বর জায়গাটি বাদ রেখে
সাজিয়ে যাও পরপর।
আর হে দায়িত্ববান পুরুষ,
তালিকায় তোমার নামটি কই?
ভেবেচিন্তে যেখানে খুশি
যে নম্বরে খুশি
নিজের নামটিও টুকতে কিন্তু ভুলোনা পুরুষ!
কোনো জবাবদিহির আগেই আজ আমি
সেঁটে দিচ্ছি এই ছোট্ট পাদটীকা:
ভুল বৈরী সময়ের আমাকে দেখো,
স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো জনতাকে দেখো,
আমি এই দজ্জাল সমাজের কেউ নই!
সাহসীদের কাতার ছেড়েছি বলে, স্বার্থপর বলো,
জালিমের সামনে বোকা এক মেরুদণ্ডহীন বলো,
আমাকে অভিশাপ দাও হে মিছিল।
আমাকে অভিশাপ দাও হে শ্লোগান।
আমাকে অভিশাপ দাও হে রক্তাক্ত যুবক।
আমাকে অভিশাপ দিয়ে শেষ করে দাও।
আমাকে দেখে, বেইমানী জলছাপ দেখে,
যেন এই রাস্ট্র সংস্কারের কাজে আর কেউ
পিছপা হবার সাহস না করে ভবিষ্যতে কোনদিন।
সাহসীদের ইশতেহার পাঠের বেলা
কোনো আঁতাত করে,
আমার ভাই এর রক্তের সাথে বেইমানি করে
সাহসী খেতাব আমার চাই না মোটেই।
কাপুরুষের কোনো খেতাব সাজেনা কখনো।
আমার ভুলের জন্য,
পূর্ব পুরুষের ভুলের জন্য,
অধিকৃত জনপদে আজ চলছে যে জুলুমের শাসন,
তার জন্য আমিও কম দায়ী নই।
অরক্ষিত গুপ্ত স্বাধীনতার দায়
বেড়ে বেড়ে আজ আমি এতো পরাধীন!
রক্ত দেখে আঁতকে উঠতে উঠতে আমি এতো আতঙ্কিত।
বিপ্লব দেখিনি বলে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো যুবকের পাশে
আমার কবিতা কতটা অসহায় লাগছে আজ।
কবিতার বাইরে কেন রাজপথে শ্লোগান শিখিনি আমি?
বিপ্লব বিপ্লব বলে দেয়ালের লেখা ও কবিতা হলো
ঘর থেকে মাঠ,
ঘাট পেরিয়ে রাস্তায়, মোড়ের ময়দানে...
আমি দূরে থেকে উঁকি দিয়ে দেখি
ঘামে ভিজে একাকার বিপ্লবী মুখের শ্লোগানই
এই সময়ের সেরা কবিতা।
শ্লোগান বিহীন কবিতা লেখার দায়ে
আমাকে অভিশাপ দাও হে পুরুষ।