❒ গ্রামীণ মেলার বৈশাখী উৎসবে মাতোয়ারা সাধারণ মানুষ
ধ্রুব নিউজ
মাটির তৈরি পুতুল, হাতি, ঘোড়া ও বাহারি রঙের শখের হাঁড়ির পসরা । ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন প্রান্তে বসেছে জমজমাট বৈচিত্র্যময় গ্রামীণ মেলা। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মেলাগুলোতে বাচ্চাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ লক্ষ করা গেছে।
যশোর শহর এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের ভিড়ে পৌর পার্কে মূল মেলার আশপাশ জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শহরের দড়াটানা, কোর্ট পার্ক সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসিয়ে মেলার স্টল গুলো বসেছে। মেলার আকর্ষণের মধ্যে দেখা গেছে মাটির তৈরি পুতুল, হাতি, ঘোড়া ও বাহারি রঙের শখের হাঁড়ি। বিশেষ করে শিশুদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল হাতে তৈরি বৈচিত্র্যময় এসব মাটির খেলনা। পসরা সাজিয়ে বসা একজন মৃৎশিল্পী আসাদ মিয়া জানান, বংশপরম্পরায় আমরা এই কাজ করি। সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই দিনটার জন্য। বর্তমানে প্লাস্টিকের খেলনার চাহিদা বেশী থাকলেও পহেলা বৈশাখের মেলায় মাটির জিনিসের চাহিদা এখনও কমেনি।
রাস্তার গা ঘেষে থাকা স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, শুধুমাত্র মৃৎশিল্পই নয়, আরও স্থান পেয়েছে বাঁশ ও বেতের তৈরি ডালা, কুলা, আর গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া নাড়ু, মোয়া ও মুড়কির মতো বাহারি সব খাবার।
পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে নিউমার্কেট থেকে ঘুরতে আসা রাহাত জানান, শহরের যান্ত্রিকতার মাঝে এই মেলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা শেকড় থেকে কতটা সমৃদ্ধ। বাচ্চার জন্য মাটির পুতুল আর ঘোড়া কিনলাম, যা দেখে ও খুবই আনন্দিত।
যশোরের পহেলা বৈশাখ আজ সব ধর্মের ও বর্ণের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ উৎসব বাঙালির ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন সচেতন সমাজ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় বাড়ছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ধ্রুব/এস.আই