প্রিজন পাবলিক স্কুল
সকাল সাত, চিন্তা ছুটছে
আর আমি, পিছে পিছে
চোখ রাঙানি সূর্যের পরাজয় সকালের কাছে
ভৈরব হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত
ঢুকে যায় "প্রিজন পাবলিক স্কুলে"
যেখানে গোলাপের কুড়িদের খেলা দেখি রোজ
পাপীমন নিমেষেই গিলে খায় নিষ্পাপ ভোজ
ক্লাসে ঢোকে সফিস্টগণ পার্থিব বিরক্তি মুখে
বের হয় দেব-দেবীরুপে কি যেনো স্বর্গসুখে
চোখ মেলে বইটা বসে থাকে হাতে
আর বসি আমি আমগাছটার সাথে
কলিজাপচা ভৈরবের ধেয়ে আসা শ্বাস
পাংশুল দেয়ালটা করে হাঁসফাঁস
স্বর্গ নরক সুদূর কল্পনা নয়
যে শুধু মানুষ বোঝে কিসে তার ভয়
মাঝালীর সাথে চলে চুমে যাওয়া প্রেম
সম্পর্ক বুঝতে পারা কেনো হবে শেম।
ফ্যাঁৎ ফ্যাঁৎ স্যাঁই স্যাঁই
কিভাবে সংকট, গিলে গিলে খাচ্ছি।
টাকার পায়ের তলে, পিষ্ট পুইপাতা,
রাতের বাজারে, কিনে আনি বাঁশপাতা।
এভাবেই সংকট, খুব টের পাচ্ছি।
পঁচাগলা মাছ, হবে এক সাঝ
সারাদিন টিপেটিপে, ফেলে যাওয়ার পর
তৈলহীন কড়াইয়ের, নেচে যাওয়া সর।
পড়েছে পকেটে বাজ, হয় কি পেটের কাজ।
দশটাকা বাচাঁতে হেঁটেহেঁটে চলছি
বুঝেয়েছি বাচ্চার, বয়স তোমার চার,
এ বয়স হলে পার, করিবেনা আবদার।
এভাবেই কতকথা বলছি।
শুয়োরের বাচ্চারা, বলে আছি স্বর্গে
'ফ্যাতাড়ু' হতে চাই, ফ্যাঁৎ ফ্যাঁৎ স্যাঁই স্যাঁই
কলিজা চিবিয়ে খাই,পাঠিয়ে দি মর্গে।
আপন ঘরে শরণার্থী
দেখ দেখ! উইপোকার মতো কুরেকুরে খাচ্ছে
আমার ঘরবাড়ি, বেঁচে থাকার স্বপ্ন।
আমার বৃহৎ মানচিত্র
যা কিনা উকুনের মতো দেখায়।
আমার বসতভিটা নাকি ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি
আহা! পবিত্র ভূমি, আহা! পবিত্র ঈশ্বর,
তোমার এ কেমন লীলা,
তোমাকেই মধ্যে রেখে চলছে রক্তখেলা।
তোমার এ ভূমিতে প্রতিদিন ঝরে হাজারো নিস্পাপ রক্তশ্বাস
তোমার এ ভূমিতে প্রতিদিন চলে দোজখের আগুনের উল্লাস
যে কুন্ডলীতে পুড়ে যায় দুধের শিশু, আমি ও আমার স্বপ্ন।
আমি বুঝিনা, এ কেমন তোমার পবিত্র ভূমি।
তুমি বলেছো “ শিশু ও আমি এক” তাহলে
তোমার ভূমিতে তুমিই পুড়ছো?
তুমি কি করে বুঝবে হে ঈশ্বর,
তোমার তো কোনো সমকক্ষ বা পরিবার রাখো নাই।
আহা! তোমার মৃত্যু ও নাই।
তুমি কি করে বুঝবে এ যন্ত্রণা, হে এতিম ঈশ্বর।
তোমার এ ভেলকিবাজির চরকায়
আজ আমি আপন ঘরে শরানার্থী।
আমি আমার ঠিকানা বদলে নিয়েছি,
পাল্টে নিয়েছি নম্বর প্লেট।
অভিমান পুড়েছে—
ছাইয়ের কালিতে লিখেছি রোড নম্বর।
অলস ড্রেনের ধারে
ছেঁড়া কবিতা,
ছোট্ট স্তবক জুড়ে জমে উঠেছে মেঘ।
সেখানে তোমার কথা নেই,
বিকেলের হারানো একমুঠো সুখ
ঘূর্ণি বাতাসে ভেসে
আবারও দিয়েছে চিঠি ভুল ঠিকানায়।
আমি আমার দরজাটা বন্ধ করেছি,
রঙ পাল্টে নীলের অবয়বে সাজিয়েছি
নতুন ঠিকানা।
আমি আমার ঠিকানা বদলে নিয়েছি—
একাই, অভিমানে....