কবিতা
গৃহিণী গহ্বরে
অনুভূতি হারিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে হয় না আমাকে,
দায়িত্বের দরিদ্রতার জালে জড়িয়ে যাওয়া চাতক আমি,
অবিরাম তোমার অপেক্ষায় অশান্ত হতে নেই আমার আয়োজন,
যেন চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে হৃদয় ছুঁয়ে শীতল চৈতন্য রোদ,
আমার সকল সত্তাকে বিচলিত করে,জানিয়ে দিচ্ছে, আমি নিতান্তই নন্দিনী।।
ইচ্ছে হলেই ছুঁতে নেই আকাশ, সুমদ্রের নীল,পাহাড়ী সবুজ, ঝর্নার নুড়ি...
নদীতে ভাসা নৌকোর ছই!!
ত্রিফলা যাতনা কাহারে বলে সখী,কয়ে দিবি আমার কেউ?
চন্দ্র তাপে প্রতি রাতে আমার দহন দাহ হয়,সে দাহ মোচনে
অভিসার নাই কোনোদ্বারে কোনোকালে।
পদ্মদিঘি জানে, হৃদয় ক্ষত রক্তকণা ধুয়ে দাগ দূর করতে পারে না সে মোটেও।
চুলের খোঁপায় দিঘির জলে চাঁদের প্রতিবিম্ব,
কেঁদে কেঁদে কেশ হয় যে শেষ,বলে আগুন শিখা মেঘ,
ও আলো আমারে দেয়নি অধিকার দেখিতে সুখের দেশ।
অমোঘ তৃষ্ণা
ইচ্ছে হলেই তোমাকে বলা হয় না,
তোমাকে ছাড়া ভীড়েও আমি একা,নীড়ে আমি জড়,
ইচ্ছে হলেই ছুঁয়ে তোমাকে বলা হয় না ওগো শুনছো!
ইচ্ছে হলেই তোমার হাতে রাখা হয় না হাত,
ইচ্ছে হলেই তোমার জন্য হয় না আমার সাজ,
ইচ্ছে হলেই তোমার নিয়ে যাওয়া হয়নি বনে,
ইচ্ছে হলেও ডুবতে পারিনি তোমার মনে আমি,
ইচ্ছে হলেও তোমার শ্বাসে নেওয়া হয়নি শ্বাস।
ইচ্ছে হলেই দিতে পারি না জমের দুয়ারে ঝাঁপ
এতো অপূর্ণতার পৃথিবীতে তবু
আমার সূর্য ওঠে বার বার, রাত্রি নামে ভার।