তোমাকে যখন মনে পড়ে
তোমাকে যখন মনে পড়ে -
মনে পড়ে কতখানি বিশ্বাসে বলেছিলে ভালবাসি।
জানিনা কেন আমার নির্জন হাতের মুঠোয় তোমার গোপন বিশ্বাসটুকু জমা রাখতে চেয়েছিল।
জানিনা কি আশায় তোমার নিরাকার অতনু ছুঁয়ে দেখার অধিকার দিয়েছিলে!
আমি সেই অধিকারের সিড়ি ভেঙে নতুন স্বপ্ন গড়েছি নীলাকাশের ভাঁজে
কারণে অকারণে ছুঁয়েছি তোমার অনুভূতির সাতরং ।
মাছরাঙা আলোর নীচে দাঁড়িয়েছি তোমার অপেক্ষায়।
মায়াবী চোখের অসীমতা ছুঁয়ে ঠিকানা গড়েছি স্ফটিক পেয়ালায়।
আমাবস্যার এপ্রেন জড়ানো সীমানা পেরিয়ে আমি হেঁটেছি লস্ট প্যারাডাইজের কার্ণিশ ছুঁয়ে।
তুমি স্বর্গের আদিবাস থেকে নিজেকে ছুঁড়ে দিলে জেসাস বাগানে
তোমাকে সেখানেও ছুঁয়েছি নিরন্তর শ্রাবণ বিশ্বাসে।
তোমাকে আবার ভুলে যেতে হবে-
যেভাবে ভুলে যেতে হয় পাখি ডাকা ভোর
রিমঝিম বৃষ্টির দুপুর
জোনাক জ্বলা নিঃসঙ্গ রাত্রির
তামাটে স্মৃতি!
কবিতা তো এমনই
শোরুমের সেই স্বর্ণকেশী বালিকা; যার ছোঁয়ায় মার্সিডিজ কোম্পানির কার,
ইউনিলিভারের ফেয়ার এন্ড লাভলি,
লা-পার্লা ব্রান্ডের ব্রা হয়ে ওঠে অধরা লাক্সারি পণ্য।
কবিতা তো এমনই- আধুনিক শপিংসেন্টারের ওয়ালে বিজ্ঞাপনের সেই কলগার্ল; যার লাজুক লালিমা ভেজা ঠোঁটে ডিউরেক্স কভার।
কবিতা তো এমনই- ডিজিটাল প্রযুক্তির তথাকথিত উৎকট প্রজন্ম পেপসি কোকোকলার ছোঁয়ায় হয়ে উঠে জেন-জি।
কবিতা তো এমনই- বুর্জোয়া রাজনীতি ইস্তেহার। যে ইস্তেহার লেখা হয় মিথ্যে বেসাতি, বহুজাতিক কোম্পানির শোষণের গণতান্ত্রিক অধিকার।
তোমার মায়াবী চোখ
তোমার চোখের বিস্তীর্ণ গভীরে চোখ রেখে সবাই কবি হয়ে যায়।
তোমার সেই চোখের গভীরে দৃষ্টি রেখে আমি যেন অন্যকিছু হয়ে যায়।
কখনো গৃহত্যাগী, কখনো ভবঘুরে, কখনো মুসাফির,কখনো অন্যকিছু ।
গৃহত্যাগী পথ হারায় পথের সন্ধানে। কমরেড শালিকের বেশে ছুটে যায় স্বপ্নের শিল্পারণ্যে ।
এক শহর থেকে অন্য শহর;
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে খুঁজে বেড়ায় ইনসাফের জমিন।
দিগন্ত রেখায় মাধবীলতা ছেয়ে যায়
কোন স্বপ্ন নেই শিরিষ বনে
নেই কোন সম্ভাবনা মনের গহীনে।
দু'চোখের উদাস জিজ্ঞাসায়
কমরেড হাজারো ফুলকুড়ি তুলে নেয় দু'হাতে।
অনুর্বর হাতের স্পর্শে শিল্পের বয়ান ঝরে পড়ে বিবর্ণ ধুলোয়।
দিকভ্রান্ত পাখির মতো ডানা ভেঙে পড়ে পথের শেষে।
তোমার মায়াবী চোখের বিস্তীর্ণ গভীরে চোখ রেখে সবাই কবি হয়ে যায়।
আমি আজও সেই আগের মতোই অন্যকিছু হয়ে আছি!