Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

চা পানে উপকার না ক্ষতি

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৬:২৫ এ এম
চা পানে উপকার না ক্ষতি

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়ের তালিকায় নিঃসন্দেহে ওপরের দিকে থাকবে চায়ের নাম।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, পানির পরে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পান করা তরল পদার্থ হলো চা। অনেকের কাছে চা পান কেবলই একটি অভ্যাস হলেও, এর রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণও। ক্লান্তি দূর থেকে শুরু করে আয়ু বৃদ্ধি পর্যন্ত - চা পানের স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলেছে নানা ধরনের জরিপ ও গবেষণা। আর প্রকাশিত সেসব গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে চা পানের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক।

চা মূলত: তৈরি করা হয় ক্যামেলিয়া সিনেসিস নামের চিরহরিৎ গুল্ম থেকে। এই ছোট গাছের পাতা এবং পাতার কুঁড়ি সংগ্রহ করে এর থেকে চা উৎপাদন করা হয়।

সচরাচর ব্ল্যাক টি বা র' চা, গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের মতো বিভিন্ন ধরনের নাম শোনা গেলেও তা মূলত এই উদ্ভিদ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে, পদ্ধতিতে বা পরিস্থিতিতে চাষ করা হয়ে থাকে।

কফির চেয়ে চা এগিয়ে?
মূলত ক্যাফেইনের কারণেই চায়ের মতো পানীয়ের দিকে বেশিরভাগ মানুষ ঝুঁকে থাকে। সকাল সকাল ঘুম তাড়িয়ে তাজা হতে চা অনেকটা ইঞ্জিনের তেলের মতোই কাজ করে।

আরেকটি পানীয় কফি বেশ জনপ্রিয় হলেও চায়ের থেকে তা কিছুটা পিছিয়ে। এর একটি কারণ হতে পারে এতে থাকা ক্যাফেইনের পরিমাণ।

সমান সাইজের এককাপ কফিতে যেখানে ৮০ থেকে ১১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ চায়ে থাকে ৪০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, তুলনা করলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় অর্ধেকেরও কম।

লন্ডনের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একদিনে একই সমান চা-কফি খাওয়ার পর মনোযোগের ক্ষেত্রে অভিন্ন ফলাফল দেখা গেলেও রাতে ঘুমানোর সময় কফি খাওয়া ব্যক্তিদের কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়।

অন্যদিকে, যারা চা খায় তাদের তাদের ঘুম তুলনামূলক দীর্ঘ ও প্রশান্তিদায়ক হয়।

মানসিক চাপ কমায়
চায়ের মধ্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, এবং সাথে সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি উপাদান এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ফলে চা পান করলে স্নায়ু আরাম পায়।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা যে ‘স্ট্রেস কন্ডিশন’ বা মানসিক চাপে পড়ে যাই সেখান থেকে আমাদের শরীরের ভেতরে অক্সাইডস নামের এক ধরনের উপাদান সৃষ্টি হয় বলে জানান সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান ও চা উৎপাদন প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম সাইফুল ইসলাম।

অন্যদিকে, চায়ের মধ্যে থাকে এন্টিঅক্সিডেন্ট। চায়ের মাধ্যমে শরীরে এন্টিঅক্সিডেন্ট প্রবেশ করলে তা অক্সাইডসগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে ব্যক্তি মানসিক চাপ থেকে রেহাই পায় বলে জানান তিনি।

এছাড়া চা মনকে চাঙ্গা করে, শরীর সতেজ করে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

চা যে মানুষের স্নায়ুকে শান্ত করে সে বিষয়টি বেশ কিছু গবেষণাতেও পাওয়া গেছে।

এতে দেখা গেছে, অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ভেষজ চা পানকারীদের তুলনায় নিয়মিত চা পানকারীরা তুলনামূলক শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

এছাড়া আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন যারা অন্তত তিন কাপ চা পান করেন তাদের হতাশার ঝুঁকি চা পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কম থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
চা যে কেবল মানসিক চাপ কমায়, তা-ই নয়। বিভিন্ন গবেষণায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও চা পানের উপকারিতার দিকটি উঠে এসেছে।

২০০৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন কয়েক কাপ চা পানের ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়।

এই উপকারিতা ঠিক কতটুকু, সে সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা না গেলেও তা পাঁচ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

চায়ে উপস্থিত অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলো বিপাকে সাহায্য করে, যা কি না শরীরের ইনসুলিনকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে রক্তের গ্লুকোজকে দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, রং চা গ্রহণের পর শরীরের কোষ থেকে ১৫ গুণ বেশি ইনসুলিন বের হয়।

আর ইনসুলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে নির্গত হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে
চা পানের আরেকটি উপকারিতা হলো হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা।

নেদারল্যান্ডের ১৩ বছরব্যাপী এক গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি কিছু পরিমাণে হৃৎপিণ্ডকেও সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিয়ে করা গবেষণাটিতে দেখা গেছে, দিনে ছয় কাপের বেশি চা পান করা ব্যক্তিদের হৃদরোগের শঙ্কা এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে যায়।

প্রতিদিন কয়েক কাপ চা পানের ফলে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে পাঁচ লাখ চা পানকারীদের নিয়ে করা আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি চা পান করার সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকি কিছুটা কমে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণায় বলা হচ্ছে, যারা প্রতিদিন দুই কাপ বা তারচেয়ে বেশি চা পান করেন তাদের চা পান করেন না - এমন লোকদের তুলনায় যে কোনও কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি নয় থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকে।

এছাড়া চা পানের ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু ঝুঁকিও কমে যায়।

সেক্ষেত্রে চায়ের তাপমাত্রা, দুধ বা চিনি যুক্ত করা কিংবা ক্যাফেইন বিপাকের হারের মতো বিভিন্ন অবস্থা নির্বিশেষে এই ফলাফল পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক
চা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের ‘চা’ নিয়ে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এতে পুষ্টিগুণ সামান্য থাকলেও, পলিফেনলস, ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং ক্যাটেচিন নামক উপাদানের উপস্থিতি ফ্রি রেডিক্যালস তৈরিতে বাধা দেয় এবং কোষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে বাধা দেয়।

ফলে চা ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া চায়ে উপস্থিত পলিফেনলসের পরিমাণ ২৫ শতাংশেরও বেশি থাকায় এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

চায়ের ক্ষতিকর দিক
যেকোনো কিছুর মতোই চা-ও অতিরিক্ত পান করা ঠিক না। পরিমাণের চেয়ে বেশি চা গ্রহণ করা হলে শারীরিক নানা জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে।

অতিরিক্ত চা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রবন্ধে বেশ কিছু দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো-

* চায়ের ক্যাফেইন ঘুমের চক্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত চা পান ঘুমের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

* চায়ের মধ্যে থাকা থিওফাইলিন নামে একটি রাসায়নিক উপাদান শরীরে ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে যেটা হজমে সমস্যা তৈরি করে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।

* ঘুমে সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে উদ্বেগ ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

* গর্ভবতী নারীদের চা পান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। চায়ে উপস্থিত ক্যাফেইন ভ্রুণের বিকাশে বাধা প্রধান করতে পারে যেটা পরবর্তীতে গর্ভপাত ঘটাতে পারে।

* চায়ের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো অতিরিক্ত চা পান প্রোস্টেট ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় হাজার পুরুষ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ৩৭ বছর ধরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা চা পান করে না এবং যারা প্রচুর চা পান করে তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চা পানকারীদের প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

চা সম্পর্কে আরো যা জানা জরুরি
যারা নিয়মিত চা পান করেন, যাদের কাছে বিষয়টি অনেকটাই অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে এতদিনে, তারা নিজেদের রুচি ও মর্জি মতই হয়তো সেটি করবেন।

তারপরও গবেষক ও চিকিৎসকদের রয়েছে এর ব্যবহার সম্পর্কে কিছু পরামর্শ, যা জেনে রাখতে পারেন:

* খাবার খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা পরে চা পান করা উচিৎ।

* বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চায়ের সঙ্গে দুধ বা চিনি মিলিয়ে খাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু ২০০২ সালে হিউম্যান নিউট্রিশন রিসার্চ সেন্টারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এক কাপ চায়ে ৫০ গ্রাম দুধ মেশানো হলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা ৯০ শতাংশ কমে যায়।

আর ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরের ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতাও কমে যায়।

এছাড়াও চায়ের মধ্যে দুধ মেশালে ভাস্কুলার সিস্টেমের উপর উপকারী প্রভাব কমে যায়।

* চা খাবার হজমে সহায়তা করে।

* চায়ের সঙ্গে ভিটামিন সি খেলে এর গুণাগুণ অনেকাংশে বেড়ে যায়। তবে পুরোপুরি গরম চায়ের সঙ্গে ভিটামিন সি মেলালে এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই ভিটামিন সি চা খাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মেশানো ভালো।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে 

চা বা কফির মতো পানীয় নিয়মিত অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করলে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে । এ ধরনের ক্যানসারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইসোফেজিয়াল ক্যানসার বলা হয়।

প্রায় ১০ লাখ মানুষের ওপর চালানো এই গবেষণার ফল বলছে, গরম পানীয়র প্রভাবে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকির ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গবেষণা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা চা বা কফি ‘অতিরিক্ত গরম’ পান করেন, তাঁদের এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ‘হালকা গরম’ পানীয় পানকারীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই গবেষণাটি ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যানসার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার যেকোনো পানীয়কে ‘অতিরিক্ত গরম’ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ধোঁয়া ওঠা অতিরিক্ত গরম তরল পান করার সময় তা পাকস্থলীতে যাওয়ার পথে খাদ্যনালির কোষের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৮২ জন মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, দিনে ছয় বা তার বেশি কাপ গরম পানীয় পান করলেও এই ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষকেরা বলছেন, চা বা কফিতে দুধ মেশালে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে তবে সেটিও পানের জন্য অতিরিক্ত গরমের পর্যায়েই থেকে যায়।

পানি পুরোপুরি ফোটার পর তৈরি চা একদম স্ফুটনাঙ্কের কাছাকাছি থাকে, যা প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। কাপে ঢালার পর সেই তাপমাত্রা কমে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। তাই ধোঁয়া ওঠা চা বা কফি পান করার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে গরম পানীয় কতটা সময় ঠান্ডা হতে দেওয়া উচিত, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা কঠিন বলে জানিয়েছে ক্যানসার রিসার্চ ইউকে। সংস্থাটি জানায়, ‘আপনি যদি এটি নিয়ে চিন্তিত হন, তবে আমাদের পরামর্শ হলো পানীয়টি অতিরিক্ত গরম থাকা অবস্থায় পান না করে তা সহনীয় বা আরামদায়ক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’

প্রধান গবেষক ড. কেরেন প্যাপিয়ার জানান, দক্ষিণ আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায়ও গরম পানীয়ের সঙ্গে খাদ্যনালির ক্যানসারের একই ধরনের সম্পর্কের কথা পাওয়া গেছে। সেখানে অনেকেই ‘মাতে’ (mate) নামের একটি অতিরিক্ত গরম ভেষজ পানীয় পান করে থাকেন।

তবে তিনি বলেন, ‘কত ডিগ্রি তাপমাত্রা হলে পানীয় থেকে এই ঝুঁকি বাড়ে, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।’

অন্য একটি গবেষণায় ১১৮ জন তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন ধরনের ব্ল্যাক কফির স্বাদ নিতে দেওয়া হয়েছিল। এতে দেখা যায়, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রায় পৌঁছানোর আগে পানীয়কে অতিরিক্ত গরম বলে মনে করেননি।

টেকঅ্যাওয়ে কফির কাপ প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠানের মতে, রাস্তায় বা চটজলদি পানের জন্য গরম কফির আদর্শ তাপমাত্রা হলো ৪৯ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

তবে কোনো গ্রাহক অতিরিক্ত গরম কফি চাইলে এবং বারিস্তা কফিকে দীর্ঘ সময় গরম রাখতে চাইলে তা ৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রায় পরিবেশন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে এমটিপ্যাক কফি।

গবেষকরা মনে করেন, মানুষ যদি অতিরিক্ত গরম পানীয় পান করা বন্ধ করেন, তাহলে প্রতি ১০টি খাদ্যনালির ক্যানসারের মধ্যে প্রায় একটি বা দুটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

খাদ্যনালিতে হওয়া এই স্কোয়ামাস সেল ইসোফেজিয়াল ক্যানসার তুলনামূলক বিরল। প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। যুক্তরাজ্যে কোনো ব্যক্তির জীবনদশায় এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি মাত্র ১ শতাংশের মতো। সুতরাং অতিরিক্ত গরম পানীয় কারও ঝুঁকি বাড়ালেও এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সামগ্রিক আশঙ্কা এখনো কমই রয়েছে।

এ ছাড়া ধূমপানের মতো অন্যান্য কারণ রয়েছে, যা খাদ্যনালির ক্যানসারের ক্ষেত্রে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

গবেষণাটিতে অর্থায়নকারী ক্যানসার রিসার্চ ইউকের ফিওনা ওসগান বলেন, ‘এই ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ধূমপান ত্যাগ করা এবং অ্যালকোহল বা মদপানের পরিমাণ কমিয়ে আনা।’

খাদ্যনালির ক্যানসারের উপসর্গের মধ্যে বুকজ্বালা, বদহজম, গলা বা বুকে ব্যথার পাশাপাশি ওজন কমে যাওয়া থাকতে পারে।
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)