Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

২০২৬ ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে কে?

ক্রীড়া ডেস্ক ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
২০২৬ ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে কে?

ছবি: ধ্রুব ডিজিটাল

কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর যুগের অবসান ঘটার পর ব্যালন ডি’অরের মুকুট নিয়ে লড়াইটা এখন একেবারেই উন্মুক্ত। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ২০২৫ সালের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন ওসমান দেম্বেলে। তবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের সমীকরণ নির্ধারিত হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেনের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলো শেষ হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসবে জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এর আগেই প্রভাবশালী ক্রীড়াবিষয়ক গণমাধ্যম পোর্টাল গোল ডট কম প্রকাশ করেছে  ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শীর্ষ ২০ তারকার তালিকা:

২০২৬ ব্যালন ডি’অর শীর্ষ ২০ পাওয়ার র‍্যাংকিং

২০. জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ১৫ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট।

রিয়াল মাদ্রিদে ইনজুরির ধাক্কায় কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বিশ্বকাপে নিজের বিশ্বসেরা মানের প্রমাণ দিয়েছেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ টুর্নামেন্টে মোট ৭ গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

১৯. লাউতারো মার্তিনেস (ইন্টার মিলান)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৩০ গোল, ১০ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: সিরি আ ও কোপা ইতালিয়া।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলান দ্রুত বিদায় নিলেও ঘরোয়া ফুটবলে মার্তিনেস ছিলেন অনবদ্য। সিরি আ-র সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপেও ছন্দ ধরে রাখেন তিনি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলসহ আর্জেন্টিনার হয়ে মূল নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৮. ডেভিড রায়া (আর্সেনাল)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ২৯ ক্লিন শিট | শিরোপা: বিশ্বকাপ ও প্রিমিয়ার লিগ।

আর্সেনালের দীর্ঘদিনের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার খরা কাটানোর মৌসুমে টানা তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন গ্লাভস জেতেন রায়া। পুরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানে আর্সেনাল হজম করে মাত্র ৫টি গোল। এরপর স্পেনের বিশ্বজয়ী স্কোয়াডের সদস্য হিসেবে জেতেন স্বপ্নের বিশ্বকাপ।

১৭. ফাবিয়ান রুইজ (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৩ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ১, ট্রফি দে চ্যাম্পিয়নস, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।

এই মৌসুমের সবচেয়ে বেশি ট্রফিজয়ী ফুটবলার ফাবিয়ান রুইজ। পিএসজির ট্রফি উৎসবের অন্যতম কারিগর হওয়ার পর স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল একাদশে নকআউট পর্বজুড়ে দুর্দান্ত খেলেছেন।

১৬. আশরাফ হাকিমি (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৪ গোল, ১৮ অ্যাসিস্ট, ২১ ক্লিন শিট | শিরোপা: আফ্রিকা কাপ অব নেশনস, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ১ ও উয়েফা সুপার কাপ।

পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি মরক্কোকে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন করার মূল কাণ্ডারি ছিলেন হাকিমি। জাতীয় দলের হয়ে আফ্রিকা কাপ জেতার পর বিশ্বকাপে মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাত্রাতেও দারুণ অবদান রাখেন এই রাইট-ব্যাক।

১৫. মিকেল ওয়ারজাবাল (রিয়াল সোসিয়েদাদ)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৩২ গোল, ৯ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: বিশ্বকাপ ও কোপা দেল রে।

কেরিয়ারের সেরা ছন্দে থাকা ওয়ারজাবাল রিয়াল সোসিয়েদাদকে কোপা দেল রে এনে দেন। এরপর স্পেনের বিশ্বজয়ের অভিযানে একাই করেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ গোল।

১৪. ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ২৮ গোল, ১৬ অ্যাসিস্ট।

২০২৫ সালের মন্দা কাটিয়ে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই চেনা রূপে ফেরেন ভিনিসিউস। ইউরোপীয় মঞ্চের নকআউট পর্বে অসামান্য পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানে করেন ৪টি গোল।

১৩. ডেকলান রাইস (আর্সেনাল)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৮ গোল, ১৫ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: প্রিমিয়ার লিগ।

আর্সেনালকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতাতে মিডফিল্ডে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রাইস। ক্লাবের হয়ে প্রভাব বিস্তার করার পর ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতেও নেতৃত্ব দেন তিনি।

১২. ভিতিনহা (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৭ গোল, ১০ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ১, ট্রফি দে চ্যাম্পিয়নস, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।

২০২৫ সালে সেরা তিনে থাকা এই পর্তুগিজ প্লে-মেকার এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন। পিএসজির একের পর এক ট্রফি জয়ের নেপথ্যে মাঝমাঠের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনিই।

১১. লুইস দিয়াস (বায়ার্ন মিউনিখ)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৩০ গোল, ২৭ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: বুন্দেসলিগা, ডিএফবি-পোকাল ও ডিএফএল-সুপারকাপ।

লিভারপুল থেকে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েই জার্মান ফুটবলের সাথে মানিয়ে নেন দিয়াস। বায়ার্নের ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৭টি গোলে সরাসরি অবদান রাখেন এই কলম্বিয়ান উইঙ্গার।

১০. পাউ কুবারসি (বার্সেলোনা)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ১ গোল, ২ অ্যাসিস্ট, ২৬ ক্লিন শিট | শিরোপা: বিশ্বকাপ, লা লিগা ও সুপারকোপা দে এস্পানা।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজেকে বিশ্বসেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের কাতারে নিয়ে গেছেন কুবারসি। পুরো বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ১টি গোল হজম করতে দেন তিনি, যার সুবাদে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন।

৯. খভিচা কাভারাতসখেলিয়া (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ২৩ গোল, ১০ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ১, ট্রফি দে চ্যাম্পিয়নস, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।

পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথে টানা ৭টি নকআউট ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করে নতুন রেকর্ড গড়েন জর্জিয়ান এই ফরোয়ার্ড। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য উয়েফার মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের খেতাবও পান তিনি।

৮. আরলিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৫৮ গোল, ১১ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: এফএ কাপ ও কারাবাও কাপ।

ক্লাব ফুটবলে সিটির হয়ে যথারীতি গোলের বন্যা ভাসিয়েছেন হালান্ড। পরে নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে ৭ গোল করে দেশকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার ঐতিহাসিক কৃতিত্ব দেখান।

৭. ওসমান দেম্বেলে (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ২৫ গোল, ১৪ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ১, ট্রফি দে চ্যাম্পিয়নস, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।

২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলে ইনজুরি কাটিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করেন। বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ তিনি করেন মোট ৬টি গোল।

৬. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ২ গোল | শিরোপা: বিশ্বকাপ, এফএ কাপ ও কারাবাও কাপ।

দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরি থেকে ফিরে উত্তর আমেরিকার মাটিতে সেরা রূপ দেখিয়েছেন রদ্রি। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের 'গোল্ডেন বল' নিজের করে নেন এই সিটি মিডফিল্ডার।

৫. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৫৮ গোল, ১৪ অ্যাসিস্ট।

রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের পুরো বোঝা একাই টেনেছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের গোল্ডেন বুট নিজের নামে লেখান।

৪. মাইকেল অলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ২৬ গোল, ৪১ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: বুন্দেসলিগা, ডিএফবি-পোকাল ও ডিএফএল-সুপারকাপ।

পুরো মৌসুমে চোখধাঁধানো ৪১টি অ্যাসিস্ট করে বায়ার্নকে ঘরোয়া ট্রফি জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন অলিসে। পরবর্তীতে ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপে রেকর্ড ৭টি অ্যাসিস্ট করে নতুন ইতিহাস গড়েন।

৩. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৪৪ গোল, ৩০ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: এমএলএস কাপ।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো এমএলএস (MLS) মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP) নির্বাচিত হন ৮ বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি। প্লে-অফের ৬ ম্যাচে ১৩টি গোলে অবদান রেখে ইন্টার মায়ামিকে জেতান এমএলএস কাপ। জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে ৮ গোল করে দলকে নিয়ে যান ফাইনাল পর্যন্ত।

২. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ২৬ গোল, ২১ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: বিশ্বকাপ, লা লিগা ও সুপারকোপা দে এস্পানা।

বার্সেলোনাকে ঘরোয়া ডাবল জেতানোর পাশাপাশি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের প্রধান রূপকার ছিলেন এই স্প্যানিশ বিস্ময়-বালক। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে নিজেকে ইতোমধ্যে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।

১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ)

পরিসংখ্যান (২০২৫–২৬): ৭৩ গোল, ৮ অ্যাসিস্ট | শিরোপা: বুন্দেসলিগা, ডিএফবি-পোকাল ও ডিএফএল-সুপারকাপ।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এক অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্নের হয়ে গড়া ৬১ গোলের রেকর্ড আর ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ৬টি সহ মোট ১২টি আন্তর্জাতিক গোলের ওপর ভর করে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের শক্ত দাবিদার হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তিনি।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)