ক্রীড়া ডেস্ক
মরুভূমির ফুটবলে রাতের তারাগুলো এক নিমেষেই নিভে গেল, আর সেই অন্ধকার রাতে ফুটে উঠল কেবল চরম হতাশা আর ক্ষোভের ছবি। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের উদ্বোধনী ম্যাচেই ইউএইর শক্তিশালী ক্লাব আল আইনের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে সৌদি ক্লাব আল নাসর। তবে দলের এই লজ্জাজনক হারের চেয়েও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ম্যাচের শেষভাগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অনাকাঙ্ক্ষিত এক হাতাহাতি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে দুর্দান্তভাবে মৌসুম শুরু করা আল নাসরের সাম্প্রতিক ফর্ম মোটেই ভালো যাচ্ছে না। শেষ চার ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় পাওয়া দলটি এদিন মাঠেও ছিল ছায়াবৃত। সুফিয়ান রাহিমির জোড়া গোল, সাথে হুসেইন রাহিমি ও জিওর্গোস ইয়াকুমাকিসের লক্ষ্যভেদে আল নাসরকে একপ্রকার ধসিয়ে দেয় আল আইন।
পুরো ৯০ মিনিট মাঠের ভেতর একপ্রকার বোতলবন্দী হয়ে ছিলেন ‘সিআরসেভেন’। পর্তুগিজ যুবরাজের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটে একদম শেষ মুহূর্তে। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার মাতিয়াস পালাসিওসের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ২৪ বছর বয়সী পালাসিওসকে কুস্তির কায়দায় জড়িয়ে ধরে সোজা মাটিতে আছড়ে ফেলেন রোনালদো।
পরবর্তীতে এই অদ্ভুত হাতাহাতির রহস্য উন্মোচন করে পালাসিওস দাবি করেন, মাঠের লড়াইয়ে তিনি রোনালদোকে সরাসরি খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন— বয়স হয়ে যাওয়ায় রোনালদো এখন ‘বুড়ো’ এবং বল দখলের গতিতে পর্তুগিজ তারকাকে তিনি অনায়াসেই হারিয়ে দেবেন। এই মন্তব্যেই মূলত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান রোনালদো।

এমন বিপর্যয়কর হারের পরও দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও ফুটবলারদের আগলে রেখেছেন আল নাসরের প্রধান কোচ অ্যাঞ্জে পোস্তেকোগলু। ম্যাচ শেষে হারের সমস্ত দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি জানান:
"ক্রিস্তিয়ানো পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় না পেয়েও ইতোমধ্যে ৩টি গোল করেছে। তাই পারফরম্যান্সের ঘাটতি নিয়ে খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়া যাবে না। তারা মাঠে তাদের সর্বোচ্চটাই দিয়েছে এবং সবাই দারুণ মানসিকতার শীর্ষমানের ফুটবলার। এই হারের একক দায় আমার।"
উদ্বোধনী ম্যাচের এই বড় ধাক্কা সামলে ক্লাবের সম্মান পুনরুদ্ধারের সুযোগ আল নাসর পাবে আগামী ১২ অক্টোবর, যেখানে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের ক্লাব নেফতচি ফারগানার মুখোমুখি হবে রোনালদো বাহিনী।