বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। নিজে যদি ধূমপান না করেন, তা হলেও কি আপনি নিরাপদ? উত্তরটা হবে, একেবারেই নয়। নিজে না করলেও ধূমপায়ীদের সঙ্গেও সর্বক্ষণ ওঠাবসা। নাকের সামনেই বিড়ি-সিগারেট টানছেন অনেকে। সেই ধোঁয়া প্রতিনিয়ত ঢুকছে ফুসফুসে। অন্যের সিগারেটের ধোঁয়াতেও যে ফুসফুস বিকল হতে পারে, তা নিয়ে প্রচার থাকলেও সচতনতা কম।
আইনে প্রকাশ্য ধূমপান নিষিদ্ধের বিধান থাকলেও জানা আছে অনেক মানুষের। আর মানার সংখ্যা শূন্য বললেই চলে।
পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতির কোন পরিসংখ্যান বাংলাদেশ নেই। তবে সাম্প্রতিক ভারতের প্রকাশিত এক সমীক্ষার ফলাফল ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতোই। মেডিক্যাল জার্নাল 'দ্য ল্যানসেট'-এ এক সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে ২০২৩ সালে কেবলমাত্র পরোক্ষ ধূমপানের কারণেই ৩ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত বহু। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি এ-ও দেখা গিয়েছে, অন্যের বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া শরীরে ঢুকে ফুসফুসের ক্যানসার বেশি হচ্ছে। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে কেবলমাত্র পরোক্ষ ধূমপানের কারণেই ফুসফুসের রোগে বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। বাবা বা বাড়ির বড়রা যদি ঘরেই ধূমপান করেন বা ছোটদের সামনে করেন, তা হলে সেই ধোঁয়ায় তার থেকেও বেশি ক্ষতি হবে বাড়ির খুদে সদস্যদের। ছোট থেকেই তামাকের বিষাক্ত রাসায়নিক তাদের ফুসফুসে পাকাপাকি ভাবে আস্তানা তৈরি করবে, যা পরবর্তী সময়ে হাঁপানি, সিওপিডি বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাসজনিত রোগের কারণ হয়ে উঠবে।
কতটা ক্ষতিকর পরোক্ষ ধূমপান?
শরীরের এমন কোনও অঙ্গ নেই যা ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। হার্ট, রক্তনালি, ফুসফুস, চোখ, মুখ, জননতন্ত্র, হাড়, মূত্রথলি ও পৌষ্টিকতন্ত্র সব কিছুর উপরেই ধূমপানের প্রভাব পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছর বিশ্বে তামাকের জন্য ৬০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। নিজেরা ধূমপান না করেও পরোক্ষ ভাবে ধূমপানের কারণে মৃত্যু হয় ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষের।
পরোক্ষ ধূমপানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় হৃদ্যন্ত্রের। নিকোটিন শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীর ভিতরের আস্তরণ বা এন্ডোথেলিয়ামের ক্ষতি করে। ফলে সেখানে প্রদাহ হয়। এই প্রদাহের কারণে রক্ত চলাচল বাধা পেয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।
পরোক্ষ ধূমপানে ফুসফুস, কিডনি, লিভার, পাকস্থলী, জরায়ু, মুখ ও গলার ক্যানসার, এমনকি লিউকেমিয়াও হতে পারে।
তামাকের ধোঁয়া চোখের পক্ষেও খারাপ। ছানি, স্নায়ুর সমস্যা, দৃষ্টিহীনতারও কারণ হতে পারে।
সিগারেটের ধোঁয়া প্রতিনিয়ত শরীরে ঢুকলে যা মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।
ছোটদের ক্ষেত্রে শ্বাসনালির প্রদাহ, হাঁপানি, সিওপিডি বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
কী ভাবে বাঁচবেন পরোক্ষ ধূমপান থেকে?
বাড়িতে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করুন। বাড়ির ভিতরে ধূমপান না করাই ভাল।
গাড়ির ভিতর ধূমপান আরও ক্ষতিকর। বন্ধ গাড়ির মধ্যে ধোঁয়া বহুক্ষণ স্থায়ী হয়, তাই গাড়িতে ধূমপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।
ধূমপায়ীদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। সামনে দাঁড়িয়ে কেউ ধূমপান করলে সেখান থেকে সরে আসাই ভাল।
ধূমপান যেখানে হচ্ছে সেখানে ছোটদের থাকতে দেবেন না। একান্তই যদি থাকতে হয় তা হলে মাস্ক পরে থাকা ভাল।