আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০১০ সালের ১৭ এপ্রিল (শনিবার) উগান্ডার ফোর্ট পোর্টালে উগান্ডার তোরো রাজ্যের রাজা, রাজা ওওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি ৪-এর ১৮তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখান থেকে তিনি রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ রাজার দায়িত্ব গ্রহণ করেন ছবি: এপি
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এডওয়ার্ড রুকিডি কিসানাঙ্গোমাকে। পেশায় তিনি উগান্ডা ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের একজন সংবাদ পাঠক ও সম্পাদক। গত মাসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে রাজ্যটির সাবেক রাজা ওওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিডি ৪-এর অকালমৃত্যু ঘটে। এরপরই রাজ্যের নতুন 'ক্রাউন প্রিন্স' অনুসন্ধানে গঠিত সিলেকশন কমিটি সাবেক রাজার তুতো ভাই কিসানাঙ্গোমাকে পরবর্তী শাসক হিসেবে বেছে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিসানাঙ্গোমার অভিষেক সম্পন্ন হবে। এদিকে কঙ্গো সীমান্তের নিকটবর্তী একটি প্রত্যন্ত শহরে শনিবার সাবেক রাজা ওওয়োর শেষকৃত্যানুষ্ঠান আয়োজিত হতে যাচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার শ্রদ্ধাবনত মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিশু বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করে জনমনে 'বালক রাজা' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওওয়োর অবিবাহিত অবস্থায় প্রয়াণে রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
উগান্ডার সংবিধানে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পাঁচটি ঐতিহ্যবাহী রাজ্যের অন্যতম এই তোরো। সার্বভৌম রাজকীয় শক্তি বা রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও এই রাজ্যগুলোর শাসকরা মূলত নিজস্ব উপজাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষক হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনি সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে প্রয়াত রাজা ওওয়োর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের একটি সন্তান রয়েছে। তবে তোরোর নির্বাচন কমিটি সব বিতর্ক পাশ কাটিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিত্বকে বেছে নিতে কিসানাঙ্গোমাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। রাজ্যের প্রবীণ ও ঐতিহ্যপন্থীদের সমর্থন ধরে রাখা এবং আবারও কোনো শিশুকে সিংহাসনে বসানোর ঝুঁকি এড়াতেই একজন নম্র ও মাটির কাছাকাছি থাকা সংবাদকর্মীকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজপ্রাসাদ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
তবে এই সিদ্ধান্ত বিতর্ক ও আইনি জটিলতার জন্ম দিতে পারে বলে আভাস মিলছে। সাবেক রাজা ওওয়োর বোন রুথ কোমুন্তালে স্থানীয় এনবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "এটি রাজপরিবারে বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা তৈরির এক নাটকীয় প্রচেষ্টা। প্রয়াত রাজার লিখিত উইলে তাঁর উত্তরসূরির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।"
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার মৃত্যুর পর রাজ সিংহাসনে আরোহণ করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন রাজা ওওয়ো। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ছিলেন 'বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজা'। তাঁর শৈশবকালীন অভিষেকের রাজকীয় প্রথা ও কফি বিন ছিটানোর মতো ঐতিহ্যবাহী আচার দেখতে নেসন ম্যান্ডেলার মতো শীর্ষ বিশ্বনেতারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১১ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তৎকালীন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিও উগান্ডার এই রাজপরিবারের বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে উগান্ডায় রাজতন্ত্র নিষিদ্ধ করা হলেও ১৯৯৩ সালে সংস্কৃতির ধারক হিসেবে এই রাজ্যগুলোকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করা হয়।