প্রেসবিজ্ঞপ্তি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
পুকুরে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন ও লাভ বাড়ানোর লক্ষ্যে যশোরের মনিরামপুরে ‘নারিশ এবং ইউএসজিবিসি মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মনিরামপুর উপজেলার চন্ডিপুর বাজারে নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ইউ.এস. গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টস কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)।
‘গুণগত খাদ্য, পরিমিত পরিমাণ—মাছের বৃদ্ধি, চাষির লাভ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল ‘পুকুরে মাছ চাষ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তম অনুশীলন’। অনুষ্ঠানে চাষিদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া ‘ফার্মার ফার্স্ট’ এবং পরিবেশ ও মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ‘পিপল, প্লেস, প্ল্যানেট’ নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাছ চাষিদের পুকুর প্রস্তুতি, গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য নির্বাচন, পরিমিত খাদ্য প্রয়োগ এবং মাছের সুস্থ ও দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামারের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে নারিশের এভিপি সামিউল আলিম, জিএম এস এম হক, সিনিয়র ডিজিএম মুসা কলিমুল্লাহ এবং জুনিয়র এজিএম মো. ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ইউ.এস. গ্রেইনসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মাহী সারওয়ার। প্রশিক্ষক হিসেবে কারিগরি আলোচনা পরিচালনা করেন অং তুন আয়ে।
প্রশিক্ষণে নারিশের প্রশিক্ষক অং তুন আয়ে বলেন, "নারিশ সবসময় নতুন ও গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের মাছের খাদ্য উৎপাদনের চেষ্টা করে আসছে। সাধারণ ফিডের পাশাপাশি প্রিমিয়াম ফিড ও ফ্লোটিং ফিড বাজারে আনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাছের শারীরিক বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুত। সঠিক পদ্ধতিতে খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে চাষিরা মাছের উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে সক্ষম হবেন।"
তিনি আরও যুক্ত করেন, "মাছ চাষে খাদ্যের পরিমাণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনভিজ্ঞতার কারণে অনেক সময় চাষিরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম খাদ্য প্রয়োগ করেন, যা উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি খরচ বাড়িয়ে দেয়। পরিমিত খাদ্য প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক উৎপাদন ও লাভ নিশ্চিত করাই এই প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।"
নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের জিএম এস এম হক উল্লেখ করেন, একজন মাছ চাষির খামারে মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। তাই সঠিক নিয়মে ও পরিমিত পরিমাণে খাদ্য প্রয়োগ না করা গেলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন সম্ভব নয়। মূলত চাষিদের সচেতন ও দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের মৎস্য খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।