Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি জারি: প্রচারে কী করা যাবে, কী করতে মানা

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি জারি: প্রচারে কী করা যাবে, কী করতে মানা

ছবি: ইনফোগ্রাফি এআই

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যায় বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রচারের সময় মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে সময়সীমা।

সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহেমদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়।

দীর্ঘ এক দশক দলীয়ভাবে ভোটের পর এবার নির্দলীয় প্রতীকে এসব নির্বাচনের ভোট হবে। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য এবার নতুন করে নির্বাচন আচরণ বিধিমালা জারি করা হল।

প্রচারে পোস্টার নয়, বিলবোর্ডে সীমা

নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এগুলোর আকার ও ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

·         ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট।

·         লিফলেট ও হ্যান্ডবিল হতে হবে এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি।

·         ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।

·         বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে, তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রচারের সামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ থাকতে হবে।

প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণীও ব্যবহার করা যাবে না।

মাইক, ক্যারাভান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

নির্বাচনি প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

এনআইডি-মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা

আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের নিজের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হল।

প্রচারে থাকবেন না ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিরা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

তালিকায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রের পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

আচরণবিধি ভাঙলে জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ

নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ইউপি আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা বহাল রাখা রয়েছে।

পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধান

ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে দেখাতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আগে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ ছিল না; এবার তা সীমিত পরিসরে যুক্ত হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প করা যাবে না।

পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে।

জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে এল নতুন আচরণবিধি

চলতি বছরের জুনে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধির খসড়া প্রকাশ করে ইসি। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসহ নাগরিকদের কাছ থেকে খসড়ার বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল।

পরে মতামত পর্যালোচনা করে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর তা জারি করা হল।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন ও বিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি করা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)