আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হাকাইন্দে হিচিলেমা ছবি: রয়টার্স
তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বিরোধী দলের ফল প্রত্যাখানের মুখে দ্বিতীয়বারের মতো জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন হাকাইন্দে হিচিলেমা। রাজধানী লুসাকার ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক শপথ নেন। একই অনুষ্ঠানে তার নির্বাচনী সহযোগী মুতালে নালুমাঙ্গো ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সমর্থকের পাশাপাশি কেনিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া ও তানজানিয়ার মতো আফ্রিকার একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় জয় পান হিচিলেমা। তবে তার এই বিজয়কে ঘিরে শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্দুবিলে পেয়েছেন ৩৮ শতাংশ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন মুন্দুবিলে। তবে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার আগেই বিচারব্যবস্থা ও আদালত বন্ধ থাকায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেননি বলে দাবি করেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষকরা জানান, অনেক কেন্দ্রে ফলাফল সাথে সাথে নথিবদ্ধ করা হয়নি এবং ডিজিটাল ডেটার সাথে সনাতন কাগজের দলিলের মেলবন্ধনে ঘাটতি দেখা গেছে।
নির্বাচনের পর থেকেই জাম্বিয়ার ঘরোয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে রূপ নেয়। রাজধানী লুসাকায় মুন্দুবিলের সাথে সংশ্লিষ্ট এক সম্পত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলাকালে সাবেক এক মন্ত্রী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়। সরকারপক্ষ থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হয়, যদিও বিরোধীরা তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। পরবর্তীতে মুন্দুবিলে ও তার সহযোগী মেকেবি জুলু আত্মগোপনে গেলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেয়।
শপথগ্রহণের ভাষণে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর গ্রেফতার প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বললেও রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেন হিচিলেমা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শান্তি ও নিরাপত্তার বিনিময়ে কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্রে মতভেদ স্বাভাবিক উল্লেখ করে বিরোধীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে হিচিলেমার এই পুনর্নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে যখন তিনি প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, তখন দেশ মারাত্মক ঋণের বোঝা ও ২৪ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত ছিল। সাবেক এই ব্যবসায়ী পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ঋণ পুনর্গঠন করেন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। যদিও তামা-নির্ভর এই দেশে এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি রয়েছে, তবুও বিশ্ববাজারে তামার দাম বাড়ায় দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রথম মেয়াদের অর্জনকে ভিত্তি করে আগামী পাঁচ বছরে জাম্বিয়াকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা।