Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ইসরায়েলের সাথে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি করলো গ্রিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৬:১২ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ইসরায়েলের সাথে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি করলো গ্রিস

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এবং গ্রীসের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ ও অস্ত্র সংক্রান্ত জেনারেল ডিরেক্টরেটের (জিডিডিআইএ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইয়োয়ানিস বুরাসের সাক্ষাৎ ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে নিজের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত করতে ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গ্রিস। এই চুক্তির আওতায় গ্রিসের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বহুস্তরীয় রূপ দিতে কাজ করবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এটিকে তাদের দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি এবং অন্যতম সেরা বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছে।

গ্রিসের সার্বিক সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’। চুক্তির অধীনে ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় দুই প্রতিষ্ঠান—রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)—গ্রিসকে তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ করবে।

চুক্তির মূল উপাদান ও প্রযুক্তির তালিকা:

  • প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: রাফায়েলের তৈরি ‘ডেভিডস স্লিং’ ও ‘স্পাইডার’ ব্যবস্থার পাশাপাশি যুক্ত থাকবে আইএআই-এর তৈরি ‘বারাক এমএক্স’।
  • নজরদারি রাডার: আকাশপথে যেকোনো হুমকির দ্রুত আগাম সতর্কবার্তার জন্য এলটা সিস্টেমসের তৈরি উন্নত ‘এমএমআর’ মাল্টি-মিশন রাডার সরবরাহ করা হবে।
  • কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ: সম্পূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কে সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য রাফায়েলের একটি নতুন জাতীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
  • অতিরিক্ত ড্রোন সুরক্ষা: কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ড্রোন হামলা থেকে নিরাপদ রাখতে প্রায় ২৬ মিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত চুক্তিতে ‘ড্রোন ডোম’ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাফল্য দেখানোর পর ‘ডেভিডস স্লিং’ প্রযুক্তি পেতে মুখিয়ে ছিল বেশ কয়েকটি দেশ। ফিনল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে গ্রিস এই উন্নত ব্যবস্থাটি সংগ্রহ করছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম এই চুক্তিকে তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের একটি বড় স্বীকৃতি বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রতিবেশী তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সামরিক ব্যয়ে অন্যতম এগিয়ে রয়েছে গ্রিস। দেশটি তাদের মোট জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশই প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখে। ২০৩৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগে নিজেদের আকাশসীমায় ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা প্রতিরোধী শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলাই গ্রিসের প্রধান লক্ষ্য। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৪০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্স ও ইতালি থেকে নতুন যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে।

আইনি ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার বাইরেও এই চুক্তি উভয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সমঝোতা অনুযায়ী ইসরায়েল প্রযুক্তি ও কৌশলগত দক্ষতা স্থানান্তর করবে, যা গ্রিসের স্থানীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলবে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)