Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর হত্যার ঘটনা হু হু করে বাড়ছে

ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ৩০ আগস্ট,২০২৬, ০৩:১০ পিএম
আপডেট : রবিবার, ৩০ আগস্ট,২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর হত্যার ঘটনা হু হু করে বাড়ছে

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন, অর্থাৎ ৪৭ কোটি ৩০ লাখ শিশু এখন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। ছবি: সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরদের হত্যা করার ঘটনা যেন দিন দিন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন, অর্থাৎ প্রায় ৪৭ কোটি ৩০ লাখ শিশু এখন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। ছবি: রয়টার্স

গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনি গৃহিণী আলিয়া আল-হাল্লাকের নয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ নিহত হয়। তবে তিনি এখনও নিজেকে চার নয়, বরং পাঁচ সন্তানের মা হিসেবেই পরিচয় দেন।

এএফপিকে তিনি বলেন, "ছেলের হারানোর শোক আমি এখনও মেনে নিতে পারছি না। আমি প্রায়ই বাড়ির উঠানে বসে নিচে মোহাম্মদের কবরের দিকে তাকিয়ে কাঁদি, তবে খেয়াল রাখি আমার বাকি সন্তানরা যেন তা না দেখে।"

তিনি জানান, দখলকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণে তাঁদের আল-রিহিয়া গ্রামে টহলরত সেনাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ নিহত হয়।

হাল্লাকের চাচা (যার নামও মোহাম্মদ হাল্লাক) এএফপিকে জানান, সেনাটহল দল এবং একদল বয়সে বড় তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট একটি গুলিতে তাঁর ভাইপো নিহত হয়।

জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গুলিটি মোহাম্মদের পেটে গিয়ে বিদ্ধ হয়েছিল।

তাঁর মা বলেন, "মোহাম্মদের মৃত্যুর মাধ্যমেই যেন সব শেষ হয়ে গেল।"

মোহাম্মদের মৃত্যুর বিষয়ে এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তৎকালীন সময়ে দাবি করে, আল-রিহিয়ায় মোতায়েন থাকা অবস্থায় এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়ে সেনারা গুলি চালিয়েছিল।

সচরাচর ব্যবহৃত শব্দচয়ন প্রয়োগ করে তারা জানায়, "পাথর নিক্ষেপকারী সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে সেনারা পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবর্ষণের পর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।"

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হাতে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা 'বি'তসেলেম' (B'Tselem)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে হামাসের বড় ধরনের হামলার পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৩৫ জন শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে।

ফিলিস্তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান 'কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন'-এর হিসাবে একই সময়ে এই ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০ জন।

বি'তসেলেমের তথ্যমতে, ২০০৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যবর্তী ১৭ বছরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় একজন ফিলিস্তিনি শিশু বা কিশোর নিহত হতো, যা নিয়মিত হলেও বর্তমানের তুলনায় অনেক কম।

তবে ৭ অক্টোবরের হামলার পর বি'তসেলেমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই গড় দাঁড়িয়েছে প্রতি মাসে প্রায় সাতজনে।

পাথরের জবাবে গুলি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সন্তান হারানো ১২ জন নারীর সঙ্গে কথা বলেছে এএফপি।

প্রতিটি ঘটনার বিবরণ আলাদা হলেও, প্রত্যেকেই তাঁদের পারিবারিক জীবন থমকে যাওয়া এবং বিচারহীনতার কথা তুলে ধরেছেন।

বি'তসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিহত ৫৪ জন ফিলিস্তিনি শিশু-কিশোরের মধ্যে সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। তবে নিহতদের বড় অংশের বয়স ছিল ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

অনেক সময় ইসরায়েলি বাহিনী পাথর নিক্ষেপকারী ফিলিস্তিনি তরুণদের মুখোমুখি হলে তাদের ঢালাওভাবে 'সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে গুলি চালায়, যার ফলে কিশোররা প্রাণ হারায়।

পশ্চিম তীরের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল অভি ব্লুথ ২০২৬ সালের শুরুর দিকে জানান, পাথর নিক্ষেপের অপরাধে ২০২৫ সালে সেনাবাহিনী ৪২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।

অন্যান্য কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মোহাম্মদের মতো কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিল এবং এতে উপস্থিত শিশুরাও প্রাণ হারায়।

এমনই একজন ভুক্তভোগী ছিল মাত্র সাত মাস বয়সী শিশু স্যাম আবু হাইকাল। ২০২৬ সালের জুনে পশ্চিম তীরের হেব্রন শহরে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে তার মুখ ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

'ফিলিস্তিনিরা বিচার পায় না'

তার ২৮ বছর বয়সী মা দানিয়া আবু হাইকাল এএফপিকে জানান, যখন সেনারা তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তখন স্যাম তাঁর কোলে ছিল। গুলিটি দানিয়ার এক গাল দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং তিনিও গুরুতর আহত হন।

বেথলেহেমে নিজের বাড়িতে এএফপির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় দানিয়ার মুখে বড় একটি ক্ষতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। এ সময় তিনি তাঁর নিভে যাওয়া সন্তানের একটা খেলনা শিয়াল আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আবু হাইকাল প্রশ্ন তোলেন, "কেন কেউ এক অবোধ শিশুকে গুলি করবে? মাত্র সাত মাসের একটা ছোট শিশু সেনাদের কী ক্ষতি করেছিল?"

প্রাথমিক তদন্তের পর ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করে, তাদের এক সেনা "অসংশ্লিষ্ট সাধারণ নাগরিকদের" ওপর গুলি চালিয়েছে, কারণ তাঁদের গাড়িটি সেনাবহরের দিকে গতি বাড়িয়ে আসছিল।

তবে আবু হাইকাল এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সেনা সদস্যরা গুলি শুরুর আগেই তাঁর স্বামী গাড়িটি থামিয়ে দিয়েছিলেন।

শরীরের যন্ত্রণার চেয়েও একমাত্র সন্তানকে হারানোর তীব্র কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। করুণ সুরে বলেন, "আমি প্রতিদিন কাঁদি; তাকে ছাড়া এখন আমার জীবন একবারে শূন্য।"

এএফপির সঙ্গে কথা বলা অন্যান্যদের মতোই, আবু হাইকালও একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়েছেন যেন সেনাবাহিনী ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে।

তিনি বিষণ্ন কণ্ঠে বলেন, "ইসরায়েলিদের হাতে নিহত হলে ফিলিস্তিনিরা কখনো বিচার পায় না। তবুও আমরা আশা রাখি, হয়তো কোনোদিন আমরা বিচার পাব।"

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)