ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে অজি দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার মিচেল স্টার্ক ছবি: গেটি ইমেজেস
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করায় অজিদের শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে থাকা যাবতীয় অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কেটে গেছে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সেরা শক্তিতে মাঠে নামবে, তা অনুমিতই ছিল। তবুও ধারণা করা হয়েছিল অন্তত একজন পেসারকে হয়তো বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে, কিন্তু অজি নির্বাচকরা সেই পথে হাঁটেননি; তারা একসাথেই স্কোয়াডে রেখেছেন তাদের সেরা চার পেসার—মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, স্কট বোল্যান্ড ও প্যাট কামিন্সকে। পাশাপাশি এই পেস ব্যাটারির সঙ্গে রয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিন জাদুকর নাথান লায়ন এবং সাপোর্টিং বোলার হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ক্যামেরন গ্রীন ও বিউ ওয়েবস্টারের মতো মানসম্মত অলরাউন্ডাররা।
ক্রিকেটপ্রেমীদের নতুন করে চেনানোর প্রয়োজন না হলেও শেষ দুই বছরের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে এই বোলিং আক্রমণের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মূল 'মেশিনগান' মিচেল স্টার্ক গত দুই বছরে ১৬টি টেস্ট খেলে ২০.৬৫ গড় নিয়ে শিকার করেছেন ৭৫টি উইকেট। নতুন বলের লেট ইনসুইং, রিভার্স সুইং ও ১৪৫-১৫০ কিমি গতির বিষাক্ত বাউন্সারে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং ধসিয়ে দিতে তিনি সিদ্ধহস্ত। অন্যদিকে নিখুঁত 'স্নাইপার' জশ হ্যাজলউড ৬টি টেস্টে ১৬.৬৩ গড়ে ২২টি উইকেট নিয়েছেন; অফ-স্টাম্পের একই চ্যানেলে একটানা বল ফেলে এক্সট্রা বাউন্স আদায় করে ব্যাটারদের ভুল শটে বাধ্য করা তার মূল শক্তি।
পেস আক্রমণের আরেক কাণ্ডারি স্কট বোল্যান্ড গত দুই বছরে ৯টি টেস্টে ১৭.২৭ গড়ে ৪৭টি উইকেট শিকার করেছেন; গতির চেয়েও তার নির্ভুল লাইন-লেন্থ ও সিম মুভমেন্ট দিয়ে ব্যাটারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ১০ টেস্টে ১৯.১৯ গড়ে নিয়েছেন ৪৬ উইকেট; নিজের অসাধারণ ক্রিকেট মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে অফ-কাটার, বাউন্স ও অ্যাঙ্গেলের বৈচিত্র্যে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দিতে তিনি পারদর্শী। এছাড়া স্পিন বিভাগে নাথান লায়ন ১২ টেস্টে ২৮.২৯ গড়ে ৩৭টি উইকেট নিলেও মূল পেসারদের বিশ্রামের সময় ওভারস্পিন, ড্রিফট ও বাউন্সের সাহায্যে রানের গতি আটকে রেখে ব্যাটারদের ক্রমাগত চাপে রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষিত অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণাঙ্গ টেস্ট স্কোয়াডে রয়েছেন প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস (উইকেটরক্ষক), মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেইক ওয়েদারাল্ড এবং বিউ ওয়েবস্টার।
কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতাই নয়, পুরো অস্ট্রেলীয় বোলিং লাইনআপ একটি 'ইউনিট' হিসেবে প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর, যেখানে মাত্র ৩-৪ ওভারের একটি বিধ্বংসী স্পেলেই তারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অজিদের এই ভয়ংকর পেস আক্রমণ ও লায়নের নিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণির মুখে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং কীভাবে ইনিংস সামাল দেয়, তা দেখার জন্যই এখন উদগ্রীব ক্রিকেটবিশ্ব।