ক্রীড়া ডেস্ক
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কেভিন কিগান ছবি: গেটি ইমেজেস স্পোর্ট
ফুটবল দুনিয়ায় শোকের ছায়া নামিয়ে চিরতরে বিদায় নিলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড ও সফল কোচ কেভিন কিগান। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৭৫ বছর বয়সে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা। চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারিতে তার অসুস্থতার খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে এবং জুনে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, তার ক্যান্সার একেবারে চূড়ান্ত বা চতুর্থ ধাপে পৌঁছে গেছে। অবশেষে সোমবার কিগানের পরিবার ও তার একসময়ের স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে এই কিংবদন্তির মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ফরোয়ার্ড হিসেবে বিশ্ব ফুটবলে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়েছেন কিগান। শারীরিক গড়নে খুব বেশি লম্বা না হলেও, মাঠে তার অবিশ্বাস্য গতি, ক্ষিপ্রতা ও হার না মানা লড়াকু মানসিকতা তাকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। আর ঠিক এই কারণেই সমর্থকরা ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন 'মাইটি মাউস'।
তার বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যে মোড়ানো। লিভারপুলের হয়ে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছেন তিনি। অলরেডদের জার্সিতে তিনটি ফার্স্ট ডিভিশন (বর্তমান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ), একটি এফএ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের স্বাদ পান তিনি। পরবর্তীতে জার্মান লিগে পাড়ি জমিয়ে সেখানেও সাফল্যের রাজমুকুট পরেন কিগান। ১৯৭৯ সালে জেতেন বুন্দেসলিগা শিরোপা। শুধু তাই নয়, নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থেকে ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুবার ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলারের মর্যাদাপূর্ণ খেতাব 'ব্যালন ডি’অর' নিজের করে নেন এই তারকা। জাতীয় দলের হয়েও তার পরিসংখ্যান বেশ উজ্জ্বল; ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৬৩টি ম্যাচ খেলে ২১টি গোল করার পাশাপাশি ৩১টি ম্যাচে থ্রি-লায়ন্সদের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন তিনি।
বুট জোড়া তুলে রাখার পর ডাগআউটেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন কেভিন কিগান। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কোচের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয় তার নতুন অধ্যায়। দুর্দান্ত কোচিংয়ে ক্লাবটিকে শুধু প্রিমিয়ার লিগেই তুলে আনেননি, বরং তাদের দৃষ্টিনন্দন ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন। এরপর ইংল্যান্ড জাতীয় দল (১৯৯৯-২০০০), ফুলহাম এবং ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলেও সফলতার সাথে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন ফুটবলের এই মহানায়ক। তার এই চিরপ্রস্থান বিশ্ব ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালো।