নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় অনামিকা পাল হাসপাতাল পুলিশ বক্সে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিলে পুলিশ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে সব মালামালসহ ব্যাগটি তার হাতে তুলে দেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে সততা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতাল পুলিশ ও স্থানীয় দুই তরুণ। ইজিবাইকে ভুলবশত ফেলে যাওয়া নগদ টাকা, রুপার অলংকার, গহনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ একটি মূল্যবান ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সদস্যরা।
ব্যাগের মালিক অনামিকা পাল (২৩) যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের সুজন পালের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় অনামিকা পাল পুলেরহাট এলাকা থেকে ইজিবাইকে করে দড়াটানায় আসেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর অসাবধানতাবশত তিনি তার লাল রঙের ভ্যানিটি ব্যাগটি ইজিবাইকের ভেতরেই ফেলে যান। ব্যাগটির ভেতরে নগদ ৬ হাজার টাকা, এক জোড়া রুপার নূপুর, এক জোড়া রুপার আংটি, সিটি গোল্ডের অলংকার, সিম কার্ড ও মেমোরি কার্ডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল।
এর কিছুক্ষণ পর মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামের অলক মণ্ডলের ছেলে চন্দন (২২) এবং তার বন্ধু মো. ইমন (২১) ওই ইজিবাইকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যাগটি দেখতে পান। কোনো ধরনের লোভে না পড়ে তারা ব্যাগটি উদ্ধার করে সরাসরি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সে জমা দেন।
হাসপাতাল পুলিশ বক্সের দায়িত্বরত সদস্যরা ব্যাগের ভেতরের কাগজপত্র ও সূত্র ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনামিকা পালের খোঁজ পান এবং তার সাথে যোগাযোগ করেন। আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় অনামিকা পাল হাসপাতাল পুলিশ বক্সে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিলে পুলিশ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে সব মালামালসহ ব্যাগটি তার হাতে তুলে দেন।
হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিসপত্র অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনামিকা পাল। তিনি উদ্ধারকারী দুই তরুণ এবং হাসপাতাল পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর্তমান সময়ে তরুণদের এমন সততা ও পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।