বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
শার্শায় কৃষি প্রযুক্তি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের শার্শায় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী মেলা-২০২৬’ আজ দ্বিতীয় দিনে পদার্পণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মেলায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফলমূল, ফসল ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির নানা উদ্ভাবন দেখতে আজ দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থী ও কৃষকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শার্শা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান।
মেলার উদ্বোধনের পর উপজেলা অডিটরিয়ামে এক কৃষি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, দেশের মোট জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ এখন শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, কৃষি খাত ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে।
শার্শার কৃষি খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, শার্শা অঞ্চল একসময় শুধু ধান চাষের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানে এ অঞ্চলে সবজি ও ফল চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে শার্শার আম এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। চলতি মৌসুমের গত ১৭ মে শার্শা থেকে ৪০০ কেজি হিমসাগর আম ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। গত বছর এ অঞ্চল থেকে প্রায় ৬ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির জন্য যে আম সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার একটি বড় অংশ শার্শা অঞ্চল থেকেই নেওয়া হচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান বলেন, দেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর হলেও কৃষিতে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উন্নত উদ্যোগের ক্ষেত্রে এখনও কিছু ঘাটতি রয়েছে। কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি আরও আন্তরিকভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তবে দেশের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে। এই প্রযুক্তি মেলার মাধ্যমে কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়বে যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির। আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, কৃষক ও স্থানীয় সুধীজন বক্তব্য দেন। মেলা প্রাঙ্গণে পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এই মেলায় মোট ১৪টি স্টলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, স্থানীয় কৃষিপণ্য, ফলমূল ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী কৃষি উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। আজ দ্বিতীয় দিনেও সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামী আগামীকাল ২১ মে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলাটি শেষ হবে।