ছবি: সংগৃহীত
যশোরের চাঁচড়া ইউনিয়নে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২০৪২ জন উপকারভোগী নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সরকারের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধনের মাত্র ৩ মাসের মাথায় যশোর জেলা এই তালিকায় যুক্ত হলো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ করবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার এই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে। এর আগে গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩৭ হাজার৫৬৭টি কার্ড বিতরণ করা হয়। কার্ডধারীরা ঘরে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।
তবে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বৈততা পরিহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। টিসিবি স্মার্ট কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বা ভালনারেবল উইম্যান বেনিফিট কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা এই কার্ড পাবেন না। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, বিলাসবহুল গাড়ি বা এসি ব্যবহারকারী এবং বড় ব্যবসায়ীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
যশোরে সমাজসেবা ও পরিসংখ্যান দপ্তর কঠোরভাবে শর্তসমূহ যাচাই-বাছাই করে চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৪২টি পরিবারকে মনোনীত করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য পরিবারের সদস্য সর্বোচ্চ ৫ জন হলে একটি এবং ৬ বা ততোধিক সদস্য হলে দুটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। জি-টু-পি (G2P) পদ্ধতিতে এই টাকা সরাসরি নারীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। পরবর্তীতে এই কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
গত বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।