Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ঝিনাইদহ পৌরসভার ক্যাশিয়ারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে,২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ঝিনাইদহ পৌরসভার ক্যাশিয়ারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ পৌরসভার ক্যাশিয়ার মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, জহুরুল ইসলাম একজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চনপুর এলাকায় একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়ির মালিক বনে গিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নিজ নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের ভয়ে তিনি তার বিলাসবহুল বাড়িটি এখনো রেজিস্ট্রি করেননি বলেও জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়, জহুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর নাম ভাঙিয়ে এবং তাকে ভুল বুঝিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি তহবিল থেকে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। এ ছাড়া পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও দোকান ভাড়ার প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা পৌর তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

পৌরসভার কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন , জহুরুল ইসলাম অধিকাংশ কর্মচারীর বেতনের চেক বই নিজের দখলে রাখেন এবং তাদের নগদ বেতন গ্রহণে বাধ্য করেন। তার নিজস্ব দোকান থেকে বাজার করতে কর্মচারীদের বাধ্য করা হয় এবং বেতন থেকে জোরপূর্বক বকেয়া টাকা কেটে নেওয়া হয়। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও তিনি চরম অসদাচরণ করেন এবং একাধিকবার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ।

বিগত সরকারের পতনের পর নিজের কুকর্ম ঢাকতে জহুরুল ইসলাম বর্তমানে ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন। অফিসের গোপনীয় তথ্য বাইরে পাচার করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কল রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এমনকি নিজের অপরাধ আড়াল করতে জুলাই যোদ্ধাদের ভুল বুঝিয়ে অফিসে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাও করেছেন তিনি।

পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, জহুরুল ইসলাম নিজেকে পৌরসভার ‘দ্বিতীয় মেয়র’ হিসেবে জাহির করতেন এবং তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই হেনস্থার শিকার হতে হতো। তারা অবৈধ সম্পদের আয়ের উৎস তদন্তপূর্বক তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগের অনুলিপি খুলনার স্থানীয় সরকার পরিচালক এবং ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে শুক্রবার জানান, তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। পৌরসভার কর্মচারিদের মাঝে গ্রুপিং থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে দুদকে এই অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার কোন দোকান নেই। আমি কোন দুর্নীতিও করি না। ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথিন্দ্রনাথ রায় শুক্রবার বিকালে জানান, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি হয়েও তার আচার আচরণ সন্তোষজনক নয়, এ কারণে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ধ্রুব/এস.আই  

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)