বেনাপোল (যশোর)প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
সীমান্তের কাঁটাতার আর আইনি জটিলতার বেড়াজাল পেরিয়ে অবশেষে নিজ ভূমিতে ফিরল ২১টি বাংলাদেশি তরুণ মুখ। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্টে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা এই শিশু, কিশোর ও তরুণীদের চোখেমুখে তখন দীর্ঘ প্রবাস জীবনের গ্লানি মুছে স্বজনদের কাছে ফেরার আনন্দ।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে কিংবা অসতর্কতায় দালালের খপ্পরে পড়ে এরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিল। ভারতে প্রবেশের পর সে দেশের পুলিশের হাতে আটক হলে আদালতের নির্দেশে তাদের ঠাঁই হয়েছিল মুর্শিদাবাদ কাজী নজরুল হোম, কৃষ্ণনগর হোম, বসিরহাট হোম ও বারাসাত কিশোরালয়সহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আজ তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
এই ফেরার মিছিলে একেকজনের গল্প একেক রকম। ঢাকার তুরাগের ১৮ বছর বয়সী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত ২০২৪ সালের শেষে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রের ওরঙ্গাবাদে থাকাকালীন পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আবার ৭ বছরের শিশু তাসকিয়া সুলতানা কিংবা ৮ বছরের ইয়াছিন শেখের মতো ছোট ছোট শিশুদের গল্প আরও করুণ। তারা পরিবারের সঙ্গে সীমান্ত পার হতে গিয়ে ধরা পড়েছিল; বাবা-মাকে কলকাতার সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হলেও এই শিশুদের আশ্রয় হয়েছিল হোমের চার দেওয়ালে। গত ছয় মাস থেকে এক বছর তারা বাবা-মায়ের স্নেহ ছাড়াই বিদেশের মাটিতে কাটিয়েছে।
ফেরত আসাদের তালিকায় আরও রয়েছে নড়াইলের তানহা খানম, সাতক্ষীরার সিয়াম ও মাহি শেখ, নওগাঁর অন্তু শাহা এবং খুলনার তামিম মোল্লাসহ বিভিন্ন জেলার ২১ জন। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’। সংস্থাটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই শিশু-কিশোরদের তাদের প্রকৃত অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। দীর্ঘ বিচ্ছেদ শেষে সন্তানদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় এখন অনেকগুলো পরিবার।