ছবি: এ আই প্রণীত
স্কুল ছুটি হবে, নাতি জয়কে সাথে নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরবেন—এমনটিই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না দাদি সেলিনা আক্তারের (৪৫)। নাতিকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঘাতক মোটরসাইকেলের ধাক্কায় চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া গেট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিনা আক্তার যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের দেলোয়ার রহমানের স্ত্রী। এই দুর্ঘটনায় শাহরুখ (২৪) নামে এক মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
নিহতের স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেলিনা আক্তারের নাতি মো. জয় রূপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে নাতিকে স্কুল থেকে আনতে একটি ভ্যানে করে রওনা হন সেলিনা। ভ্যানটি চাউলিয়া গেটের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাসুরের ছেলে রিজভী রহমান বিশাল জানান, "নাতিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার আকুতি ছিল তার মনে। কিন্তু স্কুল গেটের কাছে পৌঁছানোর আগেই মোটরসাইকেলটি সব শেষ করে দিল।"
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত মোটরসাইকেল চালক শাহরুখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
যশোর সদর হাসপাতালে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, নিহত সেলিনা আক্তারের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতাল মর্গে রাখা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্কুলপড়ুয়া নাতিকে আনতে গিয়ে দাদির এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।