বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
ইকরামুল কবির হত্যা মামলায় আটক পরকীয়া প্রেমিকা, তার স্বামী, বাবা ও অন্য এক নারী । ছবি: সংগৃহীত
শার্শায় যুবক ইকরামুল কবির হত্যা মামলায় পরকীয়া প্রেমিকা, তার স্বামী, বাবা ও এক নারী কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যার এক মাসের বেশি সময় পর গোয়ালঘরে পুঁতে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ইকরামুলের মরদেহ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বসতপুর গ্রামের মুন্নি আক্তার, তার স্বামী আল ফরহাদ, মুন্নির বাবা ফজল ওরফে ফজু এবং মুন্নির বিউটি পার্লারের কর্মচারী আমলাই গ্রামের কাকলী আক্তার। রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল রাতে শার্শা উপজেলার সেতাই গ্রামে বোনের বাড়ি থেকে ইকরামুল কবিরকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইকরামুলের বাবা আব্দুর রশিদ আদালতে নালিশি দরখাস্ত করলে আদালতের নির্দেশে শার্শা থানায় মামলা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে কাকলী আক্তারকে বাগআঁচড়া বাজারের একটি বিউটি পার্লার থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্নি আক্তার ও আল ফরহাদকে বসতপুর গ্রাম থেকে এবং ফজলকে সেতাই গ্রাম থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আল ফরহাদ স্বীকার করেছেন যে তার স্ত্রী মুন্নি আক্তারের সঙ্গে ইকরামুল কবিরের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে ইকরামুলকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়। পরে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
শনিবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে ফরহাদের বাড়ির গোয়ালঘর খুঁড়ে ইকরামুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শার্শা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, আল ফরহাদ রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ধ্রুব/এস.আই