ক্রীড়া ডেস্ক
গুজরাটের ট্যাকটিক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছেন জেসন হোল্ডার ছবি: আইপিএল
জয়ের ধরন যদি কোনো দলের ট্রেডমার্ক হয়, তবে গুজরাট টাইটান্স তাতে সবার চেয়ে এগিয়ে। তাদের জয়গুলোতে একটি বিশেষ ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—প্রতিপক্ষকে শুরুতেই চেপে ধরা এবং শেষ পর্যন্ত সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। বিশেষ করে আগে বোলিং করার সময় এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে দেখা গেছে। গত চারটি জয়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, গুজরাটের বোলিং বিভাগ শুরুতেই আঘাত হেনেছে, যার ফলে প্রতিপক্ষ বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছে।
চলতি মৌসুমে যখনই গুজরাট আগে বল করেছে, তারা প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই অন্তত দুটি উইকেট তুলে নিয়েছে। এই শুরুর ধাক্কা প্রতিপক্ষের ইনিংসের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। লখনউ, কলকাতা, চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুর মতো দলগুলো কেউই গুজরাটের এই বোলিং তোপের মুখে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ ১৯০ রানের নিচে আটকে গেছে, যা টাইটান্সের জন্য সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
এমনকি পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। শুরুর ১০ ওভারেই গুজরাটের বোলাররা প্রতিপক্ষের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। ম্যাচ শেষে জেসন হোল্ডার জানান, এই পদ্ধতিটি তাদের দলের বহু পুরনো কৌশল। তিনি বলেন, "আমরা ভয় পাই না, বরং খেলাটিকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।"
পরিসংখ্যান বলছে, এই মৌসুমে প্রথম ১০ ওভারে উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে গুজরাট দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। পাওয়ারপ্লে বা শুরুর ছয় ওভারে বোলিং করার সময় তারা সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করেছে। ডট বল এবং বাউন্ডারি ঠেকানোর ক্ষেত্রেও তারা লিগের অন্যতম সেরা দল।
তবে এই নির্দিষ্ট ছক বা কৌশলের কিছু সীমাবদ্ধতাও নজরে আসছে। যখনই খেলাটি ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে গড়াচ্ছে, তখনই গুজরাট খেই হারিয়ে ফেলছে। রাজস্থান রয়্যালস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে বড় রান তাড়া করতে গিয়ে তারা ব্যর্থ হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতিপক্ষের রান ২০০ ছাড়িয়ে গেলেই গুজরাটের এই কৌশল আর কাজ করছে না।
ইতিহাস বলছে, ২০২২ সাল থেকে লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে গুজরাট সফলতম দল। তাদের ২৭টি জয়ের মধ্যে ২৬টিই এসেছে ২০০ রানের কম লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে। অর্থাৎ, পিচ যখন বোলারদের সহায়তা করে এবং লক্ষ্য হাতের নাগালে থাকে, তখনই গুজরাট সবচেয়ে ভয়ংকর। কিন্তু রান যখন পাহাড়সম হয়, তখন তাদের ব্যাটিং গভীরতা এবং আগ্রাসী মেজাজের অভাব ফুটে ওঠে।
গুজরাট টাইটান্স তাদের এই নির্দিষ্ট পদ্ধতি দিয়ে সাফল্য পাচ্ছে এবং শিরোপাও জিতেছে। জেসন হোল্ডারের মতে, এই ধারাবাহিকতাই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তবে টুর্নামেন্ট যত সামনের দিকে গড়াবে, ভিন্ন কন্ডিশন এবং বড় রানের চাপ সামলাতে এই ছক কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গিয়েও তারা জয় ছিনিয়ে আনতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে তাদের আগামীর পথচলা।