Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৪ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

এফসি পোর্তোর শিরোপা জয়ঃ ফারিওলি কি তবে ম্যাজিক জানেন?

ক্রীড়া ডেস্ক ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ৪ মে,২০২৬, ০১:৪২ পিএম
আপডেট : সোমবার, ৪ মে,২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
এফসি পোর্তোর শিরোপা জয়ঃ ফারিওলি কি তবে ম্যাজিক জানেন?

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বেনফিকা এবং স্পোর্টিং লিসবনের মতো পরাশক্তিদের টেক্কা দিয়ে পোর্তো জয় করেছে তাদের ৩১তম লিগ শিরোপা ছবি: সংগৃহীত

গতকাল আলভেরকার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে লিগা পর্তুগালের ট্রফি নিশ্চিত করেছে এফসি পোর্তো।

পর্তুগিজ ফুটবলে গত কয়েক দশকে বহু কিংবদন্তি কোচের উত্থান দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। হোসে মরিনহো থেকে শুরু করে আন্দ্রে বিলাস-বোয়াস,সবাই মাঠের অভিজ্ঞতায় ছিলেন সমৃদ্ধ। কিন্তু এবার পর্তুগাল দেখল এক অন্যরকম বিপ্লব। যার পেশাদার ফুটবলার হিসেবে কোনো অতীত নেই, যার হাতে কোনো বড় ট্রফির তকমা ছিল না, সেই ৩৭ বছর বয়সী ইতালীয় কোচ ফ্রান্সেস্কো ফারিওলি এফসি পোর্তোকে উপহার দিলেন এক অবিস্মরণীয় মৌসুম।

এবারের পর্তুগিজ লিগে পোর্তো যা অর্জন করেছে, তাকে এক কথায় ‘অতিমানবীয়’ বলা চলে। ৩২ ম্যাচে মাঠে নেমে তারা হেরেছে মাত্র একটিতে। টানা ৩১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে ফারিওলির শিষ্যরা। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো তাদের রক্ষণভাগ। পুরো লিগজুড়ে তারা গোল হজম করেছে মাত্র ১৫টি। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে যা অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ রেকর্ড।

ফারিওলির এই সাফল্যের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। গত মৌসুমে আয়াক্সের ডাগআউটে তিনি দেখেছিলেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। এক সময় টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও শিরোপা খোয়াতে হয়েছিল মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে। সেই মানসিক ধকল কাটিয়ে ওঠা যেকোনো তরুণ কোচের জন্য ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ফারিওলি দমে যাননি। আয়াক্সের সেই বিষাদময় স্মৃতি পেছনে ফেলে পোর্তোর ডাগআউটে তিনি নিজেকে প্রমাণ করলেন সময়ের সেরা রণকৌশলী হিসেবে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বেনফিকা এবং স্পোর্টিং লিসবনের মতো পরাশক্তিদের টেক্কা দিয়ে পোর্তোকে এনে দিলেন তাদের ৩১তম লিগ শিরোপা।

ফারিওলির সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি দর্শনের ছাত্র। আর সেই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যায় তার প্রতিটি কৌশলে। রবার্তো ডি জারবির সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই কোচ তুরস্ক ও ফ্রান্স ঘুরে আজ ইউরোপিয়ান ফুটবলের নতুন ‘মাস্টারমাইন্ড’।

আয়াক্সে দুঃখের সাগরে ডুবলেও হতাশা কাটিয়ে আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরেছেন ফারিওলি

কাগজে-কলমে তার দল ৪-৩-৩ ফর্মেশনে মাঠে নামলেও, বল দখলে থাকাকালীন তা মুহূর্তেই পরিবর্তিত হয়ে যায় আক্রমণাত্মক ২-৩-৫ ফরম্যাটে। তার কৌশলের মূল ভিত্তিগুলো হলো:

সুইপার কিপার ও বিল্ড-আপ প্লে: ফারিওলির পদ্ধতিতে গোলরক্ষক কেবল গোলপোস্ট আগলে রাখেন না, তিনি খেলেন ১১তম আউটফিল্ড প্লেয়ার হিসেবে। গোলকিক থেকে আক্রমণ শুরুর সময় তিনি রক্ষণভাগের তৃতীয় সদস্যের ভূমিকা পালন করেন।

ইনভার্টেড ফুলব্যাক: আক্রমণ করার সময় পোর্তোর দুই প্রান্তের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা (ফুলব্যাক) মাঝমাঠে উঠে আসেন। এতে মাঠের মাঝখানে প্রতিপক্ষের তুলনায় পোর্তোর খেলোয়াড় সংখ্যা বেড়ে যায়, যা পজেশন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

আক্রমণের মরণফাঁদ: ফারিওলি তার রক্ষণভাগে ছোট ছোট পাসে বল আদান-প্রদান করে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য প্রলুব্ধ করেন। প্রতিপক্ষ যখনই প্রেস করতে সামনে এগিয়ে আসে, ঠিক তখনই উইঙ্গাররা গতি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ফাঁকা হয়ে যাওয়া রক্ষণভাগে হানা দেন।

ট্রানজিশন ডিফেন্স: মাত্র ১৫ গোল হজম করার মূল চাবিকাঠি হলো তাদের রি-প্রেস। বল হারিয়ে ফেলার সাথে সাথেই পোর্তোর খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকাতে প্রয়োজনে তারা কৌশলগত ফাউল করতেও দ্বিধা করে না।

মাঠে না খেলেও যে ফুটবলের ব্যাকরণ বদলে দেওয়া যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ এখন ফ্রান্সেস্কো ফারিওলি। আধুনিক ফুটবল যে কেবল শারীরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক দাবার চাল—পোর্তোর এই শিরোপা জয় তারই প্রমাণ। পর্তুগিজ লিগের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ফুটবল বিশ্বে ফারিওলিকে এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়ে দিল।

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)