নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়া পীর ছবি: সংগৃহীত
নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন যশোর জেলা আদালতের সহকারী জজ হিসেবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না; চতুরতা আর অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণে ধরা পড়ে গেলেন যশোরের আলোচিত প্রতারক সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী থানা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক জিয়া পীর যশোর শহরের বাগমারা রোডের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে। তিনি যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক সেরেস্তাদার ছিলেন, যাকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাতে এক নারীকে সাথে নিয়ে ঈশ্বরদী থানায় প্রবেশ করেন জিয়া পীর। নিজেকে যশোরের ‘সহকারী জজ’ পরিচয় দিয়ে তিনি দাবি করেন, রাতে তার জন্য বিশেষ পুলিশি পাহারা ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। তবে তার অতি-সতর্ক আচরণ এবং কথাবার্তায় দ্রুতই সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় যাচাই করতে যশোর আদালতে যোগাযোগ করে। সেখান থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, জিয়া পীর কোনো বিচারক নন, বরং একজন বহিষ্কৃত কর্মচারী। পুলিশের সন্দেহ বুঝতে পেরে তার সাথে আসা ওই নারী কৌশলে থানা থেকে সটকে পড়েন। এরপরই তাকে আটক করে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিয়া পীরের প্রতারণার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। যশোর জেলা জজের একান্ত সহকারী (পিএ) থাকাকালীন বিচারকের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন তিনি। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মূলত এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির দায়েই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
ওসি আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার দায়ে জিয়া পীরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।