ক্রীড়া ডেস্ক
দোষী সাব্যস্ত হলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন ফখর জামান ছবি: AFP
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ২০২৬ আসরে বড় ধরণের বিপাকে পড়েছেন লাহোর কালান্দার্সের তারকা ব্যাটার ফখর জামান। করাচি কিংসের কাছে চার উইকেটে হারের ম্যাচে বলের আকৃতি পরিবর্তনের (বল টেম্পারিং) গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ‘লেভেল-৩’ পর্যায়ের এই অপরাধের কারণে অন্তত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে শুনানি পরিচালনা করবেন।
ঘটনাটি ঘটে করাচি কিংসের রান তাড়ার শেষ ওভারের শুরুতে। হ্যারিস রউফ ও ফখর জামানের মধ্য দিয়ে বলটি যাওয়ার পর অন-ফিল্ড আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি সেটি পরীক্ষা করতে চান। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নেন যে বলের অবস্থার পরিবর্তন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বলটি বদলে ফেলা হয় এবং করাচি কিংসকে ৫ রান পেনাল্টি হিসেবে দেওয়া হয়। যদিও ফখর এই অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এই ঘটনাটি দুই বছর আগের একটি বিতর্কিত স্মৃতিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
২০২৪ বিশ্বকাপের সেই ‘ডালাস বিতর্ক’
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডালাসে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র বনাম পাকিস্তান ম্যাচেও ফখর জামানের একটি কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। সেই ম্যাচে ১৩তম ওভারে শাহীন শাহ আফ্রিদিকে একটি ছক্কা হাঁকান মোনাঙ্ক প্যাটেল। বলটি কুড়িয়ে ফখর যখন ফেরত আনছিলেন, তখন দেখা যায় তিনি বলটি তার জার্সির নিচে ঢুকিয়ে রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ও ডাগ-আউটে থাকা সদস্যদের মতে, ফখর দুই হাত জার্সির ভেতর ঢুকিয়ে দীর্ঘক্ষণ বলটিতে কিছু একটা করছিলেন। সাধারণত ঘাম দিয়ে বল উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে এক হাত বা হাতের তালু ব্যবহার করা হয়, কিন্তু ফখরের হাতের আঙুলের নড়াচড়া ছিল রহস্যজনক, যা বলের চামড়া খসখসে করার চেষ্টার মতো মনে হয়েছিল।
ডালাসের সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র এক পর্যায়ে চালকের আসনে ছিল (১৩ ওভারে ৯৮/১)। কিন্তু ফখরের সেই ঘটনার পর হঠাৎ করেই বল অস্বাভাবিকভাবে ‘রিভার্স সুইং’ করতে শুরু করে। স্ট্রোক খেলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি টাই হয় (পরবর্তীতে সুপার ওভারে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়)।
সেই সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল এবং সাপোর্ট স্টাফরা চতুর্থ আম্পায়ার রড টাকার ও ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রোর কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। যদিও আইসিসি তখন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি বা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি।
ডালাসের ঘটনাটি তখন অপ্রমাণিত সন্দেহ হিসেবে থেকে গেলেও, পিএসএলের বর্তমান পরিস্থিতি ফখর জামানকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যখন বোলিং দল প্রচণ্ড চাপের মুখে ছিল, তখনই ফখরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে পিএসএলের শুনানি প্রক্রিয়াধীন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে অপরাধী বলা যাচ্ছে না। তবে শুনানির রায়ের ওপরই নির্ভর করছে ফখরের ক্যারিয়ার ও এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ।