ক্রীড়া ডেস্ক
সানজু স্যামসনকে আউট করে উল্লাস করেন নান্দ্রে বার্গার ছবি: সংগৃহীত
অভিজ্ঞতার ভার নেই, তাই হারানোর ভয়ও নেই। আর এই 'অভিজ্ঞতাহীন' হওয়ার বিলাসিতাই কাল হয়ে দাঁড়ালো চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) জন্য। রাজস্থান রয়্যালসের পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই রিয়ান পরাগ প্রমাণ করলেন, প্রয়োজনে 'বোকা' সাজতেও তিনি দ্বিধাগ্রস্ত নন। আর তার সেই সুপরিকল্পিত 'ডাম্ব ডাক' বা বোকা হাঁসের ফাঁদেই নীল-হলুদ জার্সি গায়ে প্রথম ম্যাচেই খেই হারালেন সানজু স্যামসন।
ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই চমক দেখান পরাগ। রবীন্দ্র জাদেজার মতো ক্ষিপ্র ফিল্ডারকে দাঁড় করান শর্ট থার্ড-এ, আর জোফরা আর্চারকে পাঠান ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে। সাধারণত এই পজিশনগুলোতে সেরা ফিল্ডারদের রাখা হয় না। কিন্তু পরাগের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন—সাবেক সতীর্থ সাঞ্জু স্যামসনকে প্রলুব্ধ করা।
পরিসংখ্যান ঘেঁটে পরাগ জানতেন, ইনিংসের প্রথম ৫ বলের মধ্যে স্যামসন কোন জোনে খেলতে পছন্দ করেন। সেই অনুযায়ী ফিল্ডিং সাজিয়ে তাকে বাধ্য করা হয় এমন শট খেলতে যা তিনি সচরাচর খেলেন না। ফল মিলল হাতেনাতে। নান্দ্রে বার্গারের ছোঁড়া ভেতরে ঢোকা বল সামলাতে গিয়ে অফ স্টাম্প খোয়ালেন সিএসকে-র নতুন ওপেনার।
রিয়ান পরাগ ম্যাচ শেষে অকপটে স্বীকার করেন, "এটা একটা জুয়া ছিল। কাজ না করলে লোকে আমাকে 'ডাম্ব ডাক' বা বোকা বলত। কিন্তু আমরা ডেটা অ্যানালিস্টের সাহায্য নিয়ে জানতাম ও প্রথম ৩-৪ বল কোথায় খেলে। আমরা চেয়েছিলাম ও পুল না খেলে কাট করুক, আর সেটাই হয়েছে।"
সানজুর বিদায়ের পর শুরু হয় সিএসকে-র ব্যাটিং বিপর্যয়। আর্চার ও বার্গারের গতির ঝড়ে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
আয়ুশ মৈত্র পরাস্ত হন বার্গারের বাউন্সারে। সন্দীপ শর্মার গতির তারতম্যে বিভ্রান্ত হন ম্যাট শর্ট।
রানের চাপ সামলাতে না পেরে আর্চারের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন রুতুরাজ গায়কওয়াড়।
এমনকি ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামা সরফরাজ খানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জাদেজার স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। শিভম দুবে একটি ছক্কা মেরে আশা জাগালেও পরের ওভারেই উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন লং অফে।
বৃষ্টির কারণে পিচে কিছুটা আর্দ্রতা ছিল, যার পুরো সুবিধা নিয়েছে রাজস্থান। ৮ উইকেটের বিশাল জয় আর বৈভব সূর্যবংশীর বিধ্বংসী হাফ-সেঞ্চুরি রাজস্থানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, সিএসকে-র ব্যাটিং কোচ মাইকেল হাসি স্বীকার করেছেন যে কন্ডিশন বুঝতে ভুল করেছিলেন তাদের ব্যাটাররা।
হাসি বলেন, "হয়তো আমাদের আরও কিছুটা সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট না হারিয়ে খেলাটা ধরা দরকার ছিল। কিন্তু আজকের আগ্রাসী ক্রিকেটের যুগে সবাই শট খেলতে চায়। কন্ডিশন আজ আমাদের অনুকূলে ছিল না।" তবে শিষ্যদের ওপর থেকে চাপ কমাতে তিনি যোগ করেন, "আমি চাই না তারা হীনম্মন্যতায় ভুগুক। একটা খারাপ দিন গেছে, সেটা ভুলে আমাদের সামনে এগোতে হবে।"
গুয়াহাটিতে যখন চেন্নাই পা রেখেছিল, তখন তারা ছিল আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু মঙ্গলবার যখন তারা ফিরতি ফ্লাইটে উঠবে, তখন তাদের সঙ্গী হবে একরাশ হতাশা। অভিজ্ঞতার অভাব নাকি ভুল পরিকল্পনা—কোনটি সিএসকে-র এই বিপর্যয়ের মূল কারণ, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলতেই পারে। তবে দিনশেষে রিয়ান পরাগের সেই 'স্মার্ট ক্রিকেট' আর সাহসী নেতৃত্বই রাজস্থানকে এনে দিল এক দাপুটে জয়।