ক্রীড়া ডেস্ক
মার্ক কুকুরেয়া ছবি: সংগৃহীত
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের অবস্থান শক্ত করলেও মনের এক কোণে এখনো শৈশবের ক্লাব বার্সেলোনাকে আগলে রেখেছেন মার্ক কুকুরেয়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ এই লেফট ব্যাক জানিয়েছেন, বার্সেলোনা থেকে প্রস্তাব আসলে তা ফিরিয়ে দেওয়া তার জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন’ হবে। তার এমন খোলামেলা মন্তব্য চেলসিতে তার দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
২৭ বছর বয়সী কুকুরেয়ার ফুটবলের হাতেখড়ি বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে। তবে ন্যু ক্যাম্পে মূল দলে জায়গা পাওয়াটা তার জন্য সহজ ছিল না। ২০১৮ সালে কোপা দেল রে-তে মাত্র ৭ মিনিটের একটি ক্যামিও ম্যাচই ছিল বার্সার সিনিয়র দলের হয়ে তার একমাত্র স্মৃতি। এরপর নিয়মিত খেলার সুযোগ খুঁজতে তিনি এইবার ও গেতাফেতে লোনে খেলেন।
২০২১ সালে ২০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ব্রাইটন তাকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসে। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০২২ সালে প্রায় ৬৫.৩ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল অঙ্কের ট্রান্সফার ফিতে চেলসিতে যোগ দেন তিনি।
চেলসির জার্সিতে কুকুরেয়া দারুণ সফল। অল ব্লুজ দের হয়ে কনফারেন্স লিগ ও ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ের পাশাপাশি স্পেনের হয়ে ২০২৪ সালে জিতেছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। চলতি মৌসুমেও তিনি চেলসির হয়ে ৪১টি ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু শেকড়ের টান কি ভোলা যায়?
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কুকুরেয়া বলেন, "বার্সেলোনাকে না বলা কঠিন। এটা শুধু আমার বিষয় নয়, পরিবারের কথাও ভাবতে হবে। যদি সুযোগ আসে, তবে দেখা যাবে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। সবসময়ই মনে মনে ফেরার কথা ভাবি। তবে আপাতত আমি এবং আমার পরিবার ইংল্যান্ডে খুব সুখী। এখনই নয়, কয়েক বছর পর হয়তো বিষয়টি নিয়ে ভাবব।"
কুকুরেয়ার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন চেলসির ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে এনজো ফার্নান্দেজের রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জন, অন্যদিকে মাঠের হতশ্রী পারফরম্যান্স,সব মিলিয়ে বেশ চাপে আছে লন্ডনের ক্লাবটি।
চেলসির সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে পিএসজির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে ব্লুজরা। ফ্রান্সে ৫-২ গোলে হারের পর ঘরের মাঠেও ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় তারা। প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে বর্তমানে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে চেলসি। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় কোয়ালিফাই করাই এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
একদিকে ক্লাবের বাজে ফর্ম, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের দল ছাড়ার ইঙ্গিতসব মিলিয়ে চেলসি কোচ ও ম্যানেজমেন্ট এখন কোন পথে হাঁটে, সেটাই দেখার বিষয়।