শার্শা প্রতিনিধি
বেনাপোল সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ছবি: ধ্রুব নিউজ
এক ফোঁটা জ্বালানি তেলও যেতে পারবে না ওপারে
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতাকে পুঁজি করে অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ছক নস্যাৎ করতে বেনাপোল সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এক ফোঁটা তেল পাচারের চেষ্টা হলেও নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সংকট ও ফটকাবাজি রুখতে সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে বিশেষ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, পাচারকারীদের সম্ভাব্য রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরসহ শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রতিটি যানবাহন ও মালামাল তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় ট্রাকগুলো বাংলাদেশে মাল খালাস করে ফেরার পথে তাদের জ্বালানি ট্যাঙ্কে অতিরিক্ত তেল নিয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী ফিলিং স্টেশনগুলোতে ড্রামে করে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া কোনো মোটরসাইকেল আরোহী একবারে ২০০ টাকার বেশি তেল নিতে পারবেন না—এমন নিয়ম কঠোরভাবে তদারকি করছে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। যাতে কেউ লোকালয় থেকে তেল কিনে সীমান্তে পাচার করতে না পারে।
৪বিজিবি সূত্র জানায়, অতীতে যেসব দুর্গম পথ ব্যবহার করে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের রেকর্ড রয়েছে, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে বিজিবির গোয়েন্দা শাখা (আর-ইউ) নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে।
৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রবেশমুখে দেশীয় ও ভারতীয় ট্রাকগুলো অধিক সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হচ্ছে। পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।