নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের দুই বিচারকের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের কর্মবর্জনের ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে তিনটি আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আজ বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমান-এর আদালতে কোনো আইনজীবী অংশ নেননি। আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শত শত বিচারপ্রার্থী। তবে আইনজীবীরা না থাকলেও বিচারকরা তাদের এজলাসে বসে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত ৬৭টি মামলার ধার্য দিন ছিল। সকাল থেকেই বিচারপ্রার্থীরা উপস্থিত হলেও আইনজীবীদের কেউ এজলাসে যাননি। এ অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন ৬৫টি মামলার পরবর্তী দিন ধার্যের আদেশ দেন। বাকি দুইটি মামলায় আসামিপক্ষের স্বজনেরা নিজেরাই জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে আবেদন দুটি নামঞ্জুর করেন।
এছাড়া বিচারক আইরিন পারভীনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতে ১৯টি মামলার মধ্যে ৯টি মামলায় আসামিপক্ষের স্বজনরা সরাসরি শুনানিতে অংশ নেন। অপর ১০টি মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে, যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতে ১১১টি মামলার দিন ধার্য ছিল। সেখানে আইনজীবী না থাকলেও বাদী-বিবাদীপক্ষের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। বিচারক এ দিন ৭০টি মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং বাকি ৪১টি মামলার জন্য নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।
বিচারক অপসারণের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর জানান, সমিতি বর্তমানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। তিনি বলেন, আইনজীবীরা চান না ওই দুই বিচারক যশোরে দায়িত্ব পালন করুন। বিষয়টি নিয়ে পূর্বে আলোচনা হলেও বিচার বিভাগ আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। আমরা দ্রুত ওই দুই বিচারকের অপসারণ দাবি করছি, অন্যথায় আইনজীবীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।