নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
যশোর শহরের দড়াটানা মসজিদ গলি এলাকার আবাসিক ‘হোটেল প্রিন্স’ থেকে হারুন অর রশিদ (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হোটেলের ৩০৩ নম্বর রুমের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত হারুন অর রশিদ মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মালোপাড়ার বাবুর্চি বাড়ির সামাদ বাবুর্চির ছেলে। তিনি ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ‘শামীম প্লাস্টিক হাউজ’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।
যশোর পুরাতন কাসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওয়াহিদুজ্জামান জানান, দুপুর একটার দিকে হোটেল প্রিন্সের কর্মীরা ফাঁড়িতে এসে জানান যে একটি রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে বিছানার ওপর নিথর অবস্থায় হারুন অর রশিদকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের পাশে থাকা মোবাইল ফোনটি ‘ফ্লাইট মুডে’ রাখা ছিল। পুলিশ ফোনের ফ্লাইট মুডটি সচল করার পরপরই একটি কল আসে। ফোনটি রিসিভ করলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ব্যক্তিটি নিজেকে হারুন অর রশিদের জামাই বলে পরিচয় দেন। শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা স্বজনদের নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
হোটেলের ওয়ার্ড বয় আব্দুল আওয়াল জানান, গত ৩ মার্চ হারুন অর রশিদ হোটেলের ৩০৩ নম্বর রুমে ওঠেন। গত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে স্বাভাবিক দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে রুম চেক আউটের সময় বারবার দরজায় ধাক্কা দিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা পুলিশে খবর দেন।
এসআই ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী তিনি প্লাস্টিক ও কাঁচের মালামালের ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার কাজে তিনি যশোরে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।