❒ গভর্নরকে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম, দিতে দেয়নি
ধ্রুব ডেস্ক
মুনাফাসহ আমানত ফেরত পেতে আন্দোলনে থাকা ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তারা মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ফটকে আটকে দেন নিরাপত্তা কর্মীরা। এর পরও আন্দোলনকারীরা প্রবেশের চেষ্টা করলে ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এসময় আন্দোলনকারীরা হ্যান্ড মাইকে ভেতরে প্রবেশের আবেদন জানাতে থাকেন। ঘোষণা দেওয়া হয়, গভর্নরের সঙ্গে দেখা না করে তারা ফেরত যাবে না।
পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফটক ছেড়ে দিলেও খানিক বাদে তারা ফের ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশ ফটক ফের বন্ধ করে সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। আর পুলিশ সদস্যদের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
চলমান আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের এখন ৪ শতাংশ মুনাফা দিচ্ছে হেয়ার কাট বাতিল করে। আমরা পুরো মুনাফা চাই, সব টাকা দ্রুত দিতে হবে। গভর্নরকে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম, দিতে দেয়নি।”
আন্দোলনকারীদের একজন জয়নাল আবেদিন বলেন, “আমার এক কোটি টাকার এফডিআর আছে। এখন চার লাখ টাকা মুনাফা দিতে চায়, এটা আমি মানি না। তারা তো ঠিকই বেতন বোনাস নিচ্ছে।”
বেলা ২টাতেও প্রবেশ ফটকের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান দেখা যায়।
সংকটে থাকা বেসরকারি শরীয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গত বছর রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
এরপরই গত দুই অর্থবছরের জন্য আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা না দেওয়ার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হেয়ার কাট পদ্ধতিতে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আন্দোলনকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “তাদের আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তো তারল্য সংকট রয়েছে। সব টাকা দিয়ে দিলে তো ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
“সব টাকা দিতেও দেড় লাখ কোটি টাকা লাগবে। এত তো নেই। মাত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন। তাদের অনুরোধ করব, সরকার তো ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছে, আরো একটু ধৈর্য ধরতে হবে সব টাকা ফেরত পেতে।”
হেয়ার কাট বাতিলের পরে গত দুই বছরের জন্য ৪ শতাংশ মুনাফা দিচ্ছে ব্যাংক। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুরো মুনাফা দিতে হবে।
এ বিষয়ে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “তাদের দাবির বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাচাই-বাছাই করছে, দেখা যাক কী সুপারিশ আসে।”