❒ বিআরটিএ’র ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার চেক পেল ১৫০ পরিবার
এম জামান
দুপুরে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ যশোরের যৌথ উদ্যোগে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
সড়ক দুর্ঘটনার নিষ্ঠুর আঘাতে স্বজন হারানো কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করা একদল মানুষ আজ জড়ো হয় যশোর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। কোনো উৎসবের নয়; বরং চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মাঝে আশার আলো হাতে পেতে আসেন ১৫০ পরিবারের প্রতিনিধি। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছে তাদের। পায়ে প্লাস্টার নিয়ে সহায়তা নিতে আসা এক যুবক বললেন, দুর্ঘটনার পর ভেবেছিলাম ‘পৃথিবীটা এখানেই শেষ। কিন্তু সরকারের এই সাহায্য আমাকে অন্তত চিকিৎসার খরচ ও ছোট একটা ব্যবসা শুরু করার সাহস দিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার যশোর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে তার মতো এমন আরও ১৪৯টি পরিবারের চোখে দেখা গেছে বিষাদ আর আশার এক মিশ্র ছবি। এদিন যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলায় বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারের মাঝে মোট ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। যখন তিনি একের পর এক শোকাতুর মানুষের হাতে চেক তুলে দিচ্ছিলেন, তখন মিলনায়তনের পরিবেশ ছিল গুমোট। চেক নিতে আসা এক বৃদ্ধ মা, যিনি সড়ক দুর্ঘটনায় তার একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়েছেন, অশ্রুসিক্ত চোখে বলছিলেন—‘টাকা দিয়ে তো আর আমার যাদু রে ফিরে পাব না বাবা, তবে এই সহায়তায় অন্তত না খেয়ে মরব না। ওর রেখে যাওয়া ছোট বাচ্চা দুটোর পড়ালেখাটা হয়তো এবার চালিয়ে নিতে পারব।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজনের জীবন কেড়ে নেয় না, বরং একটি সাজানো পরিবারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ফেলে দেয়। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের এই প্রয়াস সেই ভেঙে পড়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর একটি ক্ষুদ্র মানবিক প্রচেষ্টা। এই অর্থ হয়তো স্বজন হারানোর বেদনা মুছিয়ে দেবে না, তবুও এই রাষ্ট্রীয় সহায়তা তাদের জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে এক সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, কেবল অর্থ দিয়ে সবটুকু পূরণ সম্ভব নয়, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যশোরের ৬৯ জনকে ২ কোটি ৭৩ লাখ, ঝিনাইদহের ৬২ জনকে ২ কোটি ৪৬ লাখ এবং মাগুরার ১৯ জনকে ৬৭ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ পরিচালক (অডিট ও আইন) রুরাইয়াৎ-ই-আশিক, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, এবং বিআরটিএ খুলনা বিভাগের পরিচালক জিয়াউর রহমান। এছাড়া স্থানীয় পরিবহন নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।