সাইফুল ইসলাম ও এম জামান
যশোরে ইফতার বেচাকেনা দুপুরেই শুরু হয় ছবি: ধ্রুব নিউজ
একসময় যশোরের ইফতার মানেই ছিল কেবল বেগুনি, পেঁয়াজু আর জিলাপি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে অনেক কিছু। দড়াটানা মোড়ে দাঁড়ালে যখন একদিকে রেশমি জিলাপির ঘ্রাণ আসে, ঠিক পাশেই তরুণ প্রজন্ম ভিড় করে মাশরুম চপ আর চিকেন স্যান্ডউইচের দোকানে। ইফতারেরঐতিহ্যের সেই চিরচেনা স্বাদের সাথে এখন যোগ হয়েছে আধুনিক ক্যাফে কালচারের ছোঁয়া।
যশোরের ইফতার বাজার এখন আর কেবল ছোলা-মুড়িতে সীমাবদ্ধ নেই। শহরের চিত্রা মোড় থেকে শুরু করে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, পুরনো ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিক ফিউশন খাবারের জয়জয়কার। বড় বড় হোটেলের সামনে সাজানো কাঁচের শো-কেসে এখন আলুর চপের চেয়েও বেশি আকর্ষণ করছে চিকেন রোল, রসুনের চপ, চিংড়ি চপ আর সবজি পাকুড়া। বিশেষ করে তরুণদের প্লেটে জায়গা করে নিচ্ছে চিকেন বল, সবজি রোল আর হরেক রকমের কাবাব। খাবারের তালিকায় আছে, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, সবজি পাকুড়া, হেলাঞ্চি চপ ও কাঁচা ঝালের চপ, জালি কাবাব, টিকিয়া, চিকেন রোল, চিকেন বল, চিকেন ফ্রাই এবং নানা পদের মাংসের চপ, শাহী জিলাপি, রেশমি জিলাপি, ফালুদা ও স্পেশাল হালিম, তেহরি ও বিরিয়ানির।
এবারের রমজানে যশোরের ভোজনরসিকদের বিশেষ নজর কেড়েছে মাশরুম চপ ও কাঁচা ঝালের চপ। ঝাল প্রেমীদের কাছে হেলাঞ্চি চপ ও কাঁচা ঝালের চপ যেমন জনপ্রিয়, তেমনি স্বাস্থ্যসচেতনদের প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাশরুম ও সবজি পাকুড়া। অন্যদিকে, শাহী জিলাপির আভিজাত্যের পাশে রেশমি জিলাপির চিকন প্যাঁচ যেন শৈল্পিক এক রূপ দিয়েছে ইফতারের ডালাকে।
শহরের নামিদামি রেস্তোরাঁগুলোর সামনে ক্রেতাদের চাপে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদের। সেখানে লম্বা লাইন দেখা গেছে জালি কাবাব, চিকেন স্যান্ডউইচ আর টিকিয়ার জন্য। ইফতারের শেষে মিষ্টিমুখ করতে ফালুদার চাহিদাও এবার তুঙ্গে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরের তুলনায় দাম এবার বেশ চড়া, কিন্তু তাতে কেনাকাটার জোয়ারে ভাটা পড়েনি।
দড়াটানা এলাকার এক প্রবীণ বিক্রেতা হাসিমুখে বলছিলেন, আগে মানুষ আসত শুধু পেঁয়াজু-বেগুনির জন্য। এখন আমাদের চিকেন সামুচা আর মাশরুম চপও সমান তালে ভাজতে হয়। সময়ের সাথে মানুষের রুচি বদলেছে, আমরাও চেষ্টা করছি নতুন কিছু দিতে। দামের অভিযোগ থাকলেও বিক্রেতাদের দাবি, অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার প্রথম দিনেই রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি হয়েছে।
ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসতেই মণিহার থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত পুরো শহর যেন এক বিশাল খাবারের মেলায় পরিণত হয়। তেহরি ও হালিমের বাটি হাতে ঘরে ফেরা মানুষের ব্যস্ততাই বলে দেয় যশোরের ইফতার সংস্কৃতিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও, সেই চিরচেনা ধর্মীয় আমেজ আর ঐতিহ্যের আবেদন আজও অমলিন।