তাতে কি আসে যায়
আমি আছি, হয়তো হৃদয়ে নই
তারও গভীরে, তোমাদের ভাষায় বিমূর্ত
বা নাইবা থাকলাম, তাতে কি আসে যায়।
যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিলো আমাদের
তোমার উষ্ণ আলিঙ্গনে মুগ্ধ হয়েছিলাম
যার রেশ ছিলো নদীর মত বহমান।
প্রথম ক্রিসমাসে তোমাকে দেখেছিলাম
একটি গাড়ীতে বসা, সাদা ঘোড়াটা
তোমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্বর্গের পথে।
না? এটা বোধ হয় আমার কল্পনা ছিলো!
আমি তোমাকে দেখেছিলাম অগণিত
ভিড়ের মাঝে ওয়াজ করতে।
আমি সেই মাহফিলের খাদেমদের
খেদমতে ছিলাম নিবেদিত প্রাণ ।
হয়তো প্রাণ ছিলাম না, তারও গভীরে
তোমাদের ভাষায় বিমূর্ত বা নাইবা থাকলাম
তাতে কি আসে যায়!
হে দেবরাজ ইন্দ্র, তুমি আজ বলছো
আমি না যোদ্ধা, না অস্ত্রধারী
তাহলে তুমি বলে দাও
কোন যুদ্ধে আমি ছিলাম না।
বরাহ, নৃসিংহ, তারকবধ, অন্ধকবধ
সূর্যের কি দায় পড়েছে তোমায় ভালোবেসে
সূর্যের কি দায় পড়ছে, তোমায় ভালোবেসে
জীবন দেবে, তবু তুমি, কষ্ট দেবে শেষে।
মিছে মায়ায়, পরকিয়ায়, পোড়াও যত সত্য
পার্থিবলোভ হয় নাকো ক্ষোভ, এসব শুধু কথ্য।
খেয়ে কাসন জগৎ শাষণ এসব কাজে মত্ত
খেয়ে বিষম ভেঙ্গে নিয়ম হবেনা কাজ তত্ত্ব
মায়ের কোলে আধোবোলে চাঁদকে ডাকে মামা
সব বিলিয়ে যায় মিলিয়ে শরীরে নেই জামা।
সূর্য নামে মুখোশ বাণে যাচ্ছে করে শাষণ
ভণ্ড ওরা কপট ওরা আসলে সব ভাষণ
সূর্যের কি দায় পড়েছে তোমায় ভালবেসে
জীবন দেবে তবু তুমি কষ্ট দেবে শেষে
প্রিজন পাবলিক স্কুল
সকাল সাত, চিন্তা ছুটছে
আর আমি, পিছে পিছে
চোখ রাঙানি সূর্যের পরাজয় সকালের কাছে
ভৈরব হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত
ঢুকে যায় "প্রিজন পাবলিক স্কুলে"
যেখানে গোলাপের কুড়িদের খেলা দেখি রোজ
পাপীমন নিমেষেই গিলে খায় নিষ্পাপ ভোজ
ক্লাসে ঢোকে সফিস্টগণ পার্থিব বিরক্তি মুখে
বের হয় দেব-দেবীরুপে কি যেনো স্বর্গসুখে
চোখ মেলে বইটা বসে থাকে হাতে
আর বসি আমি আমগাছটার সাথে
কলিজাপচা ভৈরবের ধেয়ে আসা শ্বাস
পাংশুল দেয়ালটা করে হাঁসফাঁস
স্বর্গ নরক সুদূর কল্পনা নয়
যে শুধু মানুষ বোঝে কিসে তার ভয়
মাঝালীর সাথে চলে চুমে যাওয়া প্রেম
সম্পর্ক বুঝতে পারা কেনো হবে শেম।